করোনা পরিস্থিতির সময় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ কমানোর যুক্তি দেখিয়ে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ট্রেনের টিকিটে যে বিশেষ ছাড় বন্ধ করেছিল ভারতীয় রেল, তা এখনও চালু হয়নি। অথচ দেশজুড়ে স্বাভাবিক হয়েছে জনজীবন। ট্রেন পরিষেবাও আগের মতোই চলছে। কিন্তু বহু প্রবীণ যাত্রী এখনও আগের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে সমস্যায় পড়েছেন বয়স্ক মহিলা যাত্রীরা।
সম্প্রতি তথ্যের অধিকার আইনের মাধ্যমে সামনে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। জানা গিয়েছে, গত তিন আর্থিক বছরে শুধুমাত্র প্রবীণ মহিলা যাত্রীদের কাছ থেকেই কয়েক হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় করেছে রেলমন্ত্রক। কারণ, এই সময় তাঁদের কোনও টিকিট ছাড় দেওয়া হয়নি। হিসেব অনুযায়ী, ২০২২-২৩ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ পর্যন্ত প্রবীণ মহিলা যাত্রীদের কাছ থেকে রেল প্রায় ৭ হাজার ২১৮ কোটি টাকার বেশি আয় করেছে।
আরটিআই কর্মী ও সমাজকর্মী চন্দ্রশেখর গৌড় এই তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন। তাঁর আবেদনেই রেলমন্ত্রক জানিয়েছে, এই তিন বছরে দেশে ১০ কোটিরও বেশি প্রবীণ মহিলা ট্রেনে সফর করেছেন। তাঁদের প্রত্যেককেই পুরো ভাড়া দিয়ে টিকিট কাটতে হয়েছে। আগে যেখানে নির্দিষ্ট বয়সের পর মহিলারা টিকিটে বিশেষ ছাড় পেতেন, এখন সেই সুবিধা সম্পূর্ণ বন্ধ।
সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে। অর্থাৎ সময় যত গিয়েছে, ততই বেড়েছে প্রবীণ মহিলা যাত্রীদের উপর আর্থিক চাপ। অনেকের বক্তব্য, পেনশন বা সীমিত আয়ের উপর নির্ভর করে চলা প্রবীণদের জন্য এই অতিরিক্ত খরচ যথেষ্ট সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ঘটনা সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে আলোচনা। বিরোধীদের একাংশের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার একদিকে প্রবীণদের জন্য আর্থিক সহানুভূতির কথা বললেও বাস্তবে তাঁদের কোনও স্বস্তি দিচ্ছে না। বিশেষ করে মহিলা যাত্রীদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব বেশি পড়েছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
একই সঙ্গে বাংলার রাজনীতিতেও বিষয়টি নতুন করে চর্চায় এসেছে। কারণ, মহিলাদের জন্য বিভিন্ন আর্থিক প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে তরজা চলছে। সেই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, যখন রেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবায় প্রবীণ মহিলাদের পুরনো সুবিধা ফেরানো হচ্ছে না, তখন নতুন আর্থিক প্রকল্প বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে। তবে এখনও পর্যন্ত রেলমন্ত্রকের পক্ষ থেকে কবে এই কনসেশন ফের চালু হতে পারে, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও ঘোষণা করা হয়নি।


