আমাদের দেশে প্রতিটি বড় অগ্নিকাণ্ডের পরই বহু মানুষের মৃত্যু হয় এবং প্রশাসনের নানা গাফিলতি ও বেআইনি কাজ সামনে আসে। বুধবার দক্ষিণ দিল্লির মালব্যনগরের একটি হোটেলে ভয়াবহ আগুন লেগে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩৭ জন। আগুন লাগার আসল কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাথমিক তদন্তে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। জানা গেছে, দিল্লি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ওই হোটেলটিকে মাত্র ছয়টি ঘর চালানোর অনুমতি দিয়েছিল। অথচ সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেখানে ২৫টি ঘর বানিয়ে ব্যবসা চালানো হচ্ছিল।
দিল্লি সরকারের নির্দিষ্ট নিয়মে এই ধরনের হোটেলে সর্বোচ্চ ১৬টি ঘরের অনুমতি দেওয়া যায়। সেখানে এই হোটেলটি কীভাবে এতগুলো ঘর বানিয়ে দিনের পর দিন ব্যবসা চালাল, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। এই ঘটনার পেছনে প্রশাসনের একাংশের দুর্নীতি বা মদত রয়েছে কিনা, তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তদন্তের আশ্বাস দিলেও এই চরম গাফিলতির দায় এড়াতে পারছেন না।
বুধবার সকাল পৌনে দশটা নাগাদ পাঁচতলা হোটেলের বেসমেন্টে থাকা একটি রেস্তোরাঁ থেকে প্রথম ধোঁয়া বেরোতে দেখেন স্থানীয় মানুষ। এরপরই আগুন দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দমকলের ১০টি ইঞ্জিন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে ততক্ষণে ২১ জনের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই বিদেশি পর্যটক বলে জানা গেছে। বেসমেন্ট থেকে আরও বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করেছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মতে, পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ এবং হোটেলের ওপরের তলাগুলোতেও অনেকে আটকে পড়েছিলেন। ভবনটি আগে অন্য কাজে ব্যবহৃত হলেও পরে তা হোটেলে রূপান্তর করা হয়। ঘটনার পর উদ্ধারকাজে দমকলের দেরি হওয়া নিয়েও কিছু অভিযোগ উঠেছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।


