দিল্লিতে সাম্প্রতিক ছাত্র-যুব আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। বিক্ষোভ দমনে পেলেট গান, ইলেকট্রিক ব্যাটন এবং লাঠিচার্জের অভিযোগ আগেই উঠেছিল। পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের একাংশও পালটা পাথর ছুড়েছে। তবে এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি পাথর বোঝাই ট্রাক, যার উপস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা সংসদ অভিযানের কয়েক ঘণ্টা আগে যন্তরমন্তরের কাছে একটি পাথর ভর্তি ট্রাক দেখা যায়। সেই সময় আন্দোলনকারীরা একটি ভিডিও প্রকাশ করে বিষয়টি সামনে আনেন। দলের নেতা অভিজিৎ দিপ অভিযোগ করেন, ওই ট্রাকের উপস্থিতি স্বাভাবিক নয় এবং এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
এরপর একটি সংবাদমাধ্যম ট্রাকটির গতিবিধি খতিয়ে দেখে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১৬ জুলাই মধ্য দিল্লিতে একটি সড়ক দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছিল। অভিযোগ, ট্রাকটি একটি গাড়িকে ধাক্কা মারায় সাতজন আহত হন। ঘটনার পর এফআইআর দায়ের হয় এবং ট্রাকটিকে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেয়। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটিও একই সঙ্গে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, ট্রাকটিকে পরবর্তী কয়েক দিনে অন্তত চারটি জায়গায় দেখা গিয়েছে। তার মধ্যে যন্তরমন্তরও রয়েছে। এই তথ্য সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে, পুলিশি হেফাজতে থাকা একটি ট্রাক আন্দোলনের জায়গার কাছে কীভাবে পৌঁছাল।
যদিও দিল্লি পুলিশ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, ট্রাকটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে বিক্ষোভস্থলের কাছে রাখা হয়েছিল— এমন অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।
তবে পুলিশ সূত্রের মধ্যেই এই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে। এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ভাইরাল ভিডিও প্রকাশের পর ট্রাকটিকে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে পাথর নামিয়ে আবার ফিরিয়ে আনা হয়। অন্যদিকে তদন্তকারী এক আধিকারিকের বক্তব্য, থানায় জায়গার অভাব থাকায় ট্রাকটি কিছু সময়ের জন্য বাইরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল।
কিন্তু সংসদ মার্গ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক আবার জানিয়েছেন, ১৯ জুলাই ট্রাকটি খালি করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, যদি আগের দিনই ট্রাক থেকে পাথর সরানো হয়ে থাকে, তাহলে ২০ জুলাই আন্দোলনের আগে সেটিকে পাথর বোঝাই অবস্থায় দেখা গেল কীভাবে।
শুধু ট্রাকই নয়, ঘটনাস্থলের কাছে থাকা একটি ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িকেও ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা গাড়িটি ভাঙচুর করেছে। কিন্তু দুর্ঘটনার এফআইআর বলছে, ওই গাড়িটিই ১৬ জুলাই ট্রাকের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এমনকি গাড়ির মালিকের এক আত্মীয়ও জানিয়েছেন, গাড়িটি যেখানে পাওয়া গিয়েছে, সেটি দুর্ঘটনার পর রাখা আসল জায়গা নয়।

