শ্রাবণী মেলাকে কেন্দ্র করে তারকেশ্বর মন্দিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শিবভক্তদের একাংশের অভিযোগ, দ্রুত দর্শন ও শিবলিঙ্গে জল ঢালার সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে কিছু ভক্তের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। বেশ কয়েকটি ভিডিওও ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও সেই ভিডিওগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ ভক্তদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হলেও, নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিয়ে একটি বিশেষ কুপন সংগ্রহ করলে আলাদা লাইনের মাধ্যমে দ্রুত মন্দিরে প্রবেশের সুযোগ মিলছে। এই কুপনের মূল্য ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বলে দাবি করেছেন কয়েকজন পুণ্যার্থী। এতে প্রশ্ন উঠেছে, এই অর্থ কারা সংগ্রহ করছে এবং কোন অনুমতিতে এই ব্যবস্থা চালানো হচ্ছে।
এ বছর শ্রাবণী মেলাকে আরও বড় আকারে আয়োজন করতে সরকার ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। মেলা শুরুর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, ভক্তদের কাছ থেকে কোনও ধরনের কর বা চাঁদা নেওয়া হবে না এবং তাঁদের সুবিধার জন্য সবরকম ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু সেই ঘোষণার পরও টাকা নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক ভক্তকে বলতে শোনা যায়, আগে এ ধরনের টাকা নেওয়ার প্রথা ছিল না, কিন্তু এবার নতুন করে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। অন্য একটি ভিডিওতে কয়েকজন মহিলা ভক্তকে এই বিষয় নিয়ে মন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে তর্কে জড়াতে দেখা গিয়েছে। যদিও এই ভিডিওগুলির সত্যতা এখনও নিশ্চিত হয়নি।
অন্যদিকে, তারকেশ্বর মন্দিরের মোহন্ত সুরেশ্বর আশ্রম দণ্ডীস্বামী মহারাজ জানিয়েছেন, বিশেষ লাইনের জন্য আলাদা টিকিটের ব্যবস্থা বহুদিন ধরেই রয়েছে। তাঁর দাবি, মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য খরচ চালাতে এই অর্থ প্রয়োজন হয়। তিনি আরও বলেন, সরকার শ্রাবণী মেলার জন্য অর্থ বরাদ্দ করলেও মন্দির কর্তৃপক্ষ সেই টাকা পায় না। পাশাপাশি আগের সরকারের মতো বর্তমান সরকারও মন্দিরের বার্ষিক অনুদান দেয়নি বলেও তাঁর অভিযোগ। তাঁর বক্তব্য, দেশের অনেক বড় মন্দিরেই বিশেষ দর্শনের জন্য আলাদা টিকিটের ব্যবস্থা রয়েছে।
এদিকে বিজেপির আরামবাগ জেলা সাংগঠনিক সভাপতি সুশান্ত বেরা জানিয়েছেন, এই বিষয়ে দলের কোনও কর্মী বা প্রশাসনের কোনও ভূমিকা নেই। তাঁর দাবি, পুরো বিষয়টি মন্দির কর্তৃপক্ষের অধীনেই পরিচালিত হয়। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা দাবির মাঝে শ্রাবণী মেলার এই বিতর্ক এখন আরও জোরালো হয়েছে।


