কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ককরোজ জানতা পার্টি আয়োজিত সংসদ অভিযানের পর নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনের দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যে ঘটনাগুলি ঘটেছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ পোশাকে লাঠি হাতে থাকা একদল যুবকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবারের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী, রাজনৈতিক কর্মী এবং বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য অংশ নিয়েছিলেন। সেই সময় দিল্লির বেশ কিছু এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আন্দোলন চলাকালীন ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ফলে ঘটনার সরাসরি ছবি বা ভিডিও তখন সামনে আসেনি। তবে বিকেলের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে একাধিক ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ে।
সেসব ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা শার্ট, জিনস বা সাধারণ প্যান্ট পরে কয়েকজন যুবক রাস্তার ধারে অবস্থান করছেন। তাঁদের হাতে ছিল মোটা ফাইবারের লাঠি। অভিযোগ, আন্দোলনের সময় এই ব্যক্তিরা বহু বিক্ষোভকারীকে মারধর করেন। শুধু আন্দোলনকারীই নন, কয়েকজন সাংবাদিক, ইউটিউবার এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যদেরও তাঁদের আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি উঠেছে।
একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, একজন বিক্ষোভকারী ওই যুবকদের পরিচয় জানতে চাইলে তাঁর সঙ্গে বচসা শুরু হয়। পরে তাঁকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, যদি তাঁরা সরকারি দায়িত্বে থাকেন, তাহলে কেন ইউনিফর্ম পরেননি এবং নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে আপত্তি কোথায়?
বিক্ষোভের আয়োজক সংগঠনও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে। তাদের দাবি, আন্দোলন দমনের জন্য কারা মাঠে নামানো হয়েছিল, সেই বিষয়ে প্রশাসনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। কয়েকজন বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং সমাজমাধ্যমে পরিচিত ব্যক্তিরাও একই প্রশ্ন তুলেছেন।
এদিকে আরও একটি ভিডিও ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেখানে কিছু পুলিশকর্মীকে একটি বাসের জানলার কাচ ভাঙতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
ঘটনার পর মঙ্গলবার দিল্লি পুলিশ তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে। পুলিশের বক্তব্য, বিক্ষোভে প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি মানুষ উপস্থিত হওয়ায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছিল। সেই কারণে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদেরও নিরাপত্তার কাজে নামানো হয়। পুলিশ সূত্রের দাবি, ভিডিওতে দেখা সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই কাজ করছিলেন। তবে পুলিশের এই ব্যাখ্যার পরেও বিতর্ক থামেনি। সাধারণ পোশাকে দায়িত্ব পালন, বলপ্রয়োগের অভিযোগ এবং পরিচয় গোপন রাখার প্রশ্নে এখনও নানা মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।


