Saturday, September 5, 2026
30 C
Kolkata

তালিবানদের প্রবল আক্রমণের মুখে আফগানিস্থান ছাড়ল সমস্ত জার্মান সেনা

নিউজ ডেস্ক : আফগানিস্থান তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে তালিবানের আক্রমণ। মাটি হারাচ্ছে আফগান সেনা। তালিবানের তরফে রাজি করা হয়েছে, দেশটিতে অন্তত ৯০ টি জেলা এখন তাদের দখলে। জাতিসংঘের হিসেবে তা এখন ৫০। আবার আজ আফগানিস্থানের গুরুত্বপূর্ণ শহর গজনী দখলে আজ মরিয়া হামলা শুরু করেছে তালিবান। তারই মাঝে আফগানিস্থান ছাড়ল জার্মান সেনাবাহিনীর শেষ দল। আফগানিস্তানে আর কোনো জার্মান সেনা নেই। দীর্ঘ ২০ বছর পর গতকাল মঙ্গলবার আফগানিস্তান থেকে সর্বশেষ বাকি থাকা ৫৭০ জন সেনাকে ফিরিয়ে নিয়েছে জার্মানি।

 

আফগানিস্তানের পরিস্থিতি দিনে দিনে খারাপ হচ্ছে। তালেবান এখন একের পর এক জেলা দখল করছে। আফগান সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের নিয়মিত সংঘর্ষ চলছে। এই পরিস্থিতিতে জার্মানি তাদের সব সেনা দেশে ফিরিয়ে নিল। আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের সেনা আফগানিস্তান থেকে ফিরিয়ে নেবে।

 

 

জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আনেগ্রেত ক্রাম্প-কারেনবাউয়ের জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে অবস্থানরত সকল সেনা এখন দেশে ফিরে এসেছে। এর মধ্যে দিয়ে এক ঐতিহাসিক অধ্যায় শেষ হলো। জার্মান সেনা পেশাদারিত্ব ও দৃঢ়তার সঙ্গে আফগানিস্তানে তাদের দায়িত্বপালন করেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

 

জার্মান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, আফগানিস্তান থেকে তাদের সব সেনা দেশে ফিরছে। সেখানে আর একজনও জার্মান সেনা নেই। তবে নিরাপত্তার কারণেই তারা এনিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি। আফগানিস্তানে সবমিলিয়ে জার্মানির ১১০০ জন সেনা ছিল। গত মে মাস থেকে সেনা প্রত্যাহারের কাজ শুরু হয়।

২০০২ সালের জানুয়ারিতে জার্মানির সেনারা আফগানিস্তান যায়। প্রথমে বলা হয়েছিল, তালেবানের সঙ্গে যুদ্ধ করা নয়, আফগানিস্তানের স্থিতিশীল পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করবে জার্মান সেনারা।

 

এরপর থেকে ধাপে ধাপে সবমিলিয়ে প্রায় দেড় লাখ জার্মান সেনা আফগানিস্তান গেছেন। অনেকে একাধিকবারও সেখানে গেছেন। তাদের খরচ সামলাতে দেশটির এক হাজার ২৫০ কোটি ইউরো খরচ হয়েছে। এছাড়া আফগানিস্তানে ৫৯ জন জার্মান সেনা নিহত হয়েছেন।

 

গত মে মাস থেকে মার্কিন সেনাসহ আফগানিস্তানে অবস্থানরত সকল বিদেশি সেনাকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরপরই আফগান সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তালেবানের যুদ্ধ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দেশটির সশস্ত্র ওই গোষ্ঠীটি একের পর এক এলাকা সেনাবাহিনীর কাছ থেকে দখল করে নিচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতেই আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের কাজ চলছে এবং আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের পর দেশটিতে আর কোনো বিদেশি সেনা থাকবে না।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলা চালায় জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়দা। সেই হামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এরপরই আল কায়দার পৃষ্ঠপোষক তালেবান গোষ্ঠীকে দমন করতে আফগানিস্তানে হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র ও সামরিক জোট ন্যাটো। সূত্র : ডয়চে ভেলে

Hot this week

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

Related Articles

Popular Categories