হিমাচল প্রদেশের শিমলার রোহরু উপবিভাগের খাড্ডাপানী এলাকার এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে গেল ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনা। অভিযোগ, এক প্রথম শ্রেণির দলিত ছাত্রকে নিয়মিতভাবে মারধর করতেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেবেন্দ্র ও দুই শিক্ষক বাবু রাম এবং কৃতিকা ঠাকুর। এমনকি অভিযোগ উঠছে, শিক্ষকরা একদিন এই দলিত শিশুটির প্যান্টের ভেতর জীবন্ত বিছে ঢুকিয়ে দেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আট বছর বয়সী ওই শিশুটির বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রায় এক বছর ধরে তার ছেলেকে মারধর করা হচ্ছিল। নিয়মিত মারধোরের ফলে শিশুটির কানে রক্তক্ষরণ হয় এবং কানের পর্দা ফেটে যায় বলে জানা গিয়েছে।
এমনকি স্কুলে জাতিভেদ বৈষম্যের অভিযোগও উঠেছে। শিশুটির বাবার দাবি, দলিত ও নেপালি ছাত্রদের আলাদা বসিয়ে খেতে দেওয়া হতো যাতে তারা উচ্চবর্ণের ছাত্রদের সঙ্গে না মেশে।
এই ঘটনাকে মানবতার কলঙ্ক বলে অভিহিত করেছেন মিশন আম্বেদকরের প্রতিষ্ঠাতা সুরজ কুমার বৌদ্ধ। তিনি বলেন, “যে শিক্ষক জাতপাতের ঘৃণায় অন্ধ, সে মানুষ নয়।” তার দাবি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সনহিতা, শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইন ও তফসিলি জাতি-জনজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুক্কুকে ঘটনাটির দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। সম্প্রতি রোহরু এলাকায়ই এক ১২ বছরের দলিত ছাত্র আত্মহত্যা করেছিল জাতিগত অপমান সহ্য করতে না পেরে। একের পর এক এমন ঘটনা হিমাচলে জাতিভিত্তিক বৈষম্যের গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


