মুসলিম সম্প্রদায় ও মাদ্রাসা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন হিন্দু যুব বাহিনীর এক শীর্ষ নেতা। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিওতে সংগঠনের রাজ্য ইনচার্জ রাঘবেন্দ্র প্রতাপ সিংকে একটি মাদ্রাসা ভেঙে দেওয়ার পক্ষে বুলডোজার ব্যবহারের কথা বলতে শোনা যায়। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
ভিডিওতে রাঘবেন্দ্রকে বলতে শোনা যায়, মাদ্রাসার জায়গায় কিছুই রাখা উচিত নয়। মুসলিমদের বিরুদ্ধে জমি দখল ও জবরদখলের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘ওদের দখল করার অভ্যাস, আর আমাদের ভেঙে দেওয়ার অভ্যাস।’ তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। সমালোচকদের অভিযোগ, একটি গোটা সম্প্রদায়ের মানুষকে একই ধরনের আচরণের সঙ্গে যুক্ত করা আসলে ধর্মীয় বিদ্বেষকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা।
হিন্দু যুব বাহিনী একটি হিন্দুত্ববাদী যুব সংগঠন। ২০০২ সালের এপ্রিল মাসে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। অতীতে সংগঠনটির বিরুদ্ধে গোরক্ষা সংক্রান্ত হিংসা, ‘লাভ জিহাদ’ প্রচার এবং ধর্মান্তরের মতো বিভিন্ন ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
রাঘবেন্দ্র প্রতাপ সিংয়ের বক্তব্য সামনে আসার পর সামাজিক মাধ্যমেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে মুসলিমদের নিশানা করা এবং তাঁদের সম্পর্কে সাধারণীকরণ করা এখন রাজনৈতিক বিতর্কের নিয়মিত অংশ হয়ে উঠছে।
এই ভিডিওটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন উত্তরপ্রদেশে মাদ্রাসা, মসজিদসহ মুসলিম ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভেঙে দেওয়া নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি সিদ্ধার্থনগর জেলার পিপরা রামলাল গ্রামে প্রায় ৬০ বছরের পুরনো একটি মাদ্রাসা ও মসজিদের কিছু অংশ ভেঙে দেয় প্রশাসন। সরকারি জমি দখল করে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছিল বলে প্রশাসনের দাবি। জায়গাটি একটি খেলার মাঠের জন্য নির্ধারিত ছিল বলেও জানানো হয়।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ১৯৬৮ সালে তৈরি ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ অন্যায়। ভাঙার ঘটনায় মাদ্রাসার কয়েকটি ঘর, একটি হলের অংশ, একটি দোকান এবং মসজিদের কিছুটা জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রাঘবেন্দ্রের মন্তব্য নিয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকার বা পুলিশের তরফে এখনও কোনও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


