দুর্ঘটনার পর ভাঙা হাত নিয়েও আলিম পরীক্ষায় বসে নজির গড়ল এক গ্রামবাংলার ছাত্র। দরিদ্র কৃষক পরিবারের ছেলে আমির হোসেন অসুস্থ শরীর নিয়েও পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে যাননি। হাসপাতালের শয্যায় শুয়েই তিনি তাঁর আলিম পরীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পন্ন করেন।
সোমবার বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ইতিহাস বিষয়ের পরীক্ষা দেন আমির। ডান হাত ভেঙে যাওয়ায় তিনি নিজে লিখতে পারেননি। তাই বোর্ডের নিয়ম মেনে তাঁর জন্য একজন সহায়ক নিযুক্ত করা হয়। ওই সহায়ক তাঁর কথা অনুযায়ী উত্তরপত্র লেখেন। চিকিৎসকদের অনুমতি নিয়ে হাসপাতালের একটি আলাদা কক্ষে পরীক্ষার আয়োজন করা হয়, যাতে কোনও সমস্যা না হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমিরের পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল সাঁইথিয়া ব্লকের একটি হাই মাদ্রাসায়। গত শনিবার ভূগোল ও ফিকাহ পরীক্ষা শেষ করে মোটরবাইকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাস্তায় হঠাৎ একটি কুকুর চলে আসায় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যান। এতে তাঁর ডান হাত মারাত্মকভাবে আহত হয়। পরিবারের লোকজন সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে বোলপুরে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি জেলা শিক্ষা দফতর ও স্কুল-মাদ্রাসা বোর্ডকে জানানো হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় অনুমতি ও ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যাতে পরীক্ষার্থী কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন। মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পরীক্ষাগুলিও প্রয়োজনে হাসপাতালেই নেওয়া হতে পারে।
আমির হোসেন ইলামবাজার ব্লকের জালালনগর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা জাকির হোসেন কৃষি কাজ করে পরিবার চালান। সীমিত আয়ের সংসারে থেকেও আমির পড়াশোনাকে জীবনের মূল লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছেন। তাঁর এই মানসিক দৃঢ়তা ও অধ্যবসায় এলাকার মানুষের কাছে প্রশংসিত হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রতিকূল অবস্থাতেও হার না মানার এই উদাহরণ অন্য ছাত্রদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।


