সংঘর্ষবিরতি কার্যকর থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার কোনও লক্ষণ নেই। বরং একে অন্যের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। এই হামলায় একাধিক মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ইরানের ইসলামিক রিভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে, বিশেষ করে বন্দর আব্বাস এলাকায় সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনও হামলার ঘটনার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ইরান থেকে ছোড়া ফতেহ-১১০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বিমানঘাঁটির অভ্যন্তরে আছড়ে পড়ায় কয়েকজন সেনা আহত হন এবং সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।
জানা গিয়েছে, হামলায় মার্কিন সেনাবাহিনীর দুটি ড্রোন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নির্ভুল হামলার কাজে এই ড্রোন ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি ড্রোনের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন একটি ড্রোন ধ্বংস হওয়া মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ক্ষতি। একই সঙ্গে এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতাকে আরও উসকে দিতে পারে।
এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক সমঝোতা এবং সংঘর্ষবিরতি দীর্ঘায়িত করার বিষয়ে গত কয়েক সপ্তাহে কিছুটা আশার আলো দেখা গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক এই হামলার পর সেই সম্ভাবনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসে বৈঠক হলেও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইরানের তরফেও জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনও কোনও সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিল বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন নজর রাখছে, এই ঘটনার জেরে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যায় কি না।


