যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গভীর রাতে একদল দুষ্কৃতীর হামলা ও ভাঙচুরকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। অভিযোগ, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) এবং কয়েকটি ডানপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একদল লোক বুধবার গভীর রাতে ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে। তাদের হামলায় বেশ কয়েকজন পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ছাত্রাবাস এবং ছাত্র সংগঠনের ঘরেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার একাধিক ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিওগুলিতে কয়েকজনকে ক্যাম্পাসের দরজা ভাঙতে এবং ভিতরে ঢুকতে দেখা যায়। সেই সময় স্লোগানও দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। ঘটনার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে উত্তেজনা তৈরি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া এবং রেভলিউশনারি স্টুডেন্টস ফ্রন্টের (আরএসএফ) সদস্য ইন্দ্রানুজ রায় সংবাদমাধ্যমকে জানান, রাত প্রায় বারোটা নাগাদ বাইকে করে কয়েকজন ক্যাম্পাসে ঢোকে। এরপর পড়ুয়াদের মারধর এবং ছাত্র ইউনিয়নের ঘর ও হস্টেলে ভাঙচুর করা হয় বলে তাঁর দাবি। তাঁর অভিযোগ, হস্টেলের দরজার তালা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। তবে পড়ুয়ারা একজোট হয়ে বহিরাগতদের হস্টেলের ভিতরে ঢুকতে বাধা দেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পড়ুয়াদের একাংশের অভিযোগ, পুলিশ ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করেনি। এমনকি জরুরি নম্বরে ফোন করেও পুলিশি সাহায্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রের খবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (FETSU) একটি সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনার সূত্রপাত। পরে তা সংঘর্ষের আকার নেয়। এবিভিপি ক্যাম্পাসে ঢোকার পর বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। দুই পক্ষেরই কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
পাল্টা এবিভিপির অভিযোগ, সাধারণ সভার নাম করে এসএফআই এবং ডিএসও-ডিএসএফ পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছিল। অন্যদিকে ডিএসও-র সদস্যদের দাবি, এবিভিপি বাইরে থেকে লোকজন এনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকিয়েছে এবং তারাই ভাঙচুর চালিয়েছে।
এদিকে ক্যাম্পাসের সিসিটিভি নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সিসিটিভি নিয়ন্ত্রণ কক্ষেও হামলা চালানো হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ফুটেজ নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন পড়ুয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।


