দিল্লিতে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে চলা ছাত্র আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করার অভিযোগে কেরলে আরএসএস নেতা টি জি মোহানদাসকে আটক করল পুলিশ। রবিবার, ৯ অগস্ট, ম্যাটানচেরির কুভাপ্পাডামের বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয়। তিরুবনন্তপুরম সাইবার পুলিশের একটি দল স্থানীয় পুলিশের সাহায্যে তাঁর বাড়িতে পৌঁছয়।
পুলিশের দাবি, গত ২৪ ও ২৫ জুলাই মোহানদাসের কয়েকটি ভিডিও ইউটিউবে প্রকাশ এবং বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করা হয়েছিল, যা নিয়ে আপত্তি ওঠে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষদের মধ্যে ভয় তৈরি করা এবং এলাকায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা হয়েছিল।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। মোহানদাসকে আটক করার ঘটনায় আপত্তি জানিয়েছে বিজেপি। দলের কেরল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক এস সুরেশ পুলিশের পদক্ষেপকে ‘বৈষম্যমূলক’ বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, ছুটির দিনে এইভাবে একজনকে আটক করার প্রয়োজন ছিল না। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কেরলের উপকূলবর্তী এলাকায় বন্যা মোকাবিলা এবং বিভিন্ন প্রতিবাদ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে যে প্রশ্ন উঠছে, সেখান থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই মোহানদাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিজেপির আরও অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে গুলি করার হুমকি দেওয়ার মতো বক্তব্য যাঁরা দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দলের অভিযোগ, একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়নি এবং রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা তাঁদের আড়াল করছেন। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সরকারের তরফে আলাদা করে কোনও প্রতিক্রিয়ার কথা জানা যায়নি।
মোহানদাসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা নিয়েও আগে প্রশ্ন তুলেছিল এলডিএফ। অভিযোগ ছিল, তাঁর বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও মামলা করতে দেরি করা হয়েছে। গত মাসে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর তাঁকে আটক করতে এত সময় কেন লাগল, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তদন্ত শেষ করার পর পুলিশই ঠিক করবে গ্রেফতার বা আটকের প্রয়োজন রয়েছে কি না।
রবিবারই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল। তিনি বলেন, এফআইআর দায়েরের পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তাঁর অভিযোগ, আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত কিছু মানুষ মনে করেন তাঁরা যা খুশি বলতে পারেন। কেরল পুলিশ এ ধরনের পরিস্থিতি সামলাতে সক্ষম বলেও তিনি মন্তব্য করেন। মোহানদাসের বিরুদ্ধে সাইবার পুলিশের তদন্ত এখন চলছে। তাঁর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ করা হবে, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।


