মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলার একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত এক মহিলা চিকিৎসকের সঙ্গে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভও দেখানো হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বুন্দেলখণ্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়। রোগীর সঙ্গে কয়েকজন পরিচিতও হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ, চিকিৎসা চলাকালীন তাঁদের মধ্যে দু’জন হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন কর্তব্যরত এক মহিলা চিকিৎসক। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত বিজেপি যুব মোর্চার এক নেতা।অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসক আপত্তি জানালে ওই দুই ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। শুধু তাই নয়, তাঁকে ভয় দেখানো এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগও উঠেছে। হাসপাতালের কয়েকজন নার্সও অভিযুক্তদের আচরণের শিকার হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি দ্রুত হাসপাতালের অন্যান্য কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।মহিলা চিকিৎসকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইনি ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, আইন অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল থেকেই হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা একজোট হয়ে আন্দোলনে নামেন। তাঁরা হাসপাতালের প্রবেশপথে অবস্থান বিক্ষোভ করেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি তোলেন। বিক্ষোভের কারণে কিছু সময়ের জন্য চিকিৎসা পরিষেবাও ব্যাহত হয় বলে জানা গিয়েছে।প্রতিবাদী চিকিৎসকদের বক্তব্য, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলেও যদি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরাপদ না থাকেন, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে রাতের ডিউটিতে থাকা মহিলা চিকিৎসকদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের দাবি, শুধু গ্রেপ্তার নয়, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে হাসপাতালগুলিতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করতে হবে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা হাসপাতালে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপর আপাতত বিক্ষোভ স্থগিত করা হলেও চিকিৎসকদের সংগঠন স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটা হবে।ঘটনাটি সামনে আসার পর স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। চিকিৎসক মহলের একাংশের মতে, হাসপাতালের ভিতরে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এখন প্রশাসনের অন্যতম বড় দায়িত্ব হওয়া উচিত।
মধ্যপ্রদেশে হাসপাতালের ভিতরেই মহিলা চিকিৎসককে যৌন নিগ্রহ! অভিযুক্ত বিজেপি নেতা, কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি জুনিয়র চিকিৎসকদের
Popular Categories


