মহারাষ্ট্রে আদানি গোষ্ঠীর দুই সংস্থার প্রকল্পের জন্য প্রায় ৮৩,৭০০ বর্গফুট বনজমি ব্যবহারের অনুমতি দিল মহারাষ্ট্রের রাজ্য সরকার। রায়গড় ও অমরাবতী জেলায় এই জমি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রায়গড়ের আলিবাগে প্রস্তাবিত সিমেন্ট টার্মিনালের জন্য সংরক্ষিত বন ও ম্যানগ্রোভ এলাকা রয়েছে। বন দফতর সোমবার এই সংক্রান্ত দুটি পৃথক সরকারি নির্দেশিকা জারি করেছে।প্রথম নির্দেশিকায় আদানি সিমেন্টেশন লিমিটেডকে রায়গড় জেলার আলিবাগ তালুকের শাহাপুর ও শাহাবাজ গ্রামের প্রায় ০.৬৪৯৭ হেক্টর জমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই জমির পরিমাণ প্রায় ৬৯,৯৩৩ বর্গফুট। এর মধ্যে সংরক্ষিত বন, নালা ম্যানগ্রোভ বন এবং খাঁড়ি সংলগ্ন ম্যানগ্রোভ এলাকা রয়েছে।এই জমি ব্যবহার করা হবে রায়গড় সিমেন্ট বাল্ক টার্মিনালের জন্য। সেখানে জাহাজ ভেড়ানোর জেটি, সিমেন্ট পরিবহণের জন্য কনভেয়ার করিডর, প্রয়োজনীয় সহায়ক পরিকাঠামো এবং একটি সংযোগকারী রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।তবে বনজমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক শর্ত রেখেছে সরকার। সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বন দফতরের আধিকারিকদের ওই এলাকায় অবাধে যাতায়াতের সুযোগ দিতে হবে। সংস্থার পক্ষ থেকে যদি বন আধিকারিকদের কাজে কোনও বাধা দেওয়া হয় বা এলাকায় প্রবেশে সমস্যা তৈরি করা হয়, তাহলে বনজমি অন্য কাজে ব্যবহারের অনুমতি বাতিল করা হতে পারে।অন্যদিকে, দ্বিতীয় নির্দেশিকায় আদানি টোটাল গ্যাস লিমিটেডকে অমরাবতী শহর ও সংলগ্ন এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য প্রায় ০.১২৮১ হেক্টর বনজমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই জমির পরিমাণ প্রায় ১৩,৭৮৮ বর্গফুট। সেখানে মাটির নীচ দিয়ে স্টিলের গ্যাস পাইপলাইন বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।দুটি সরকারি নির্দেশিকা মিলিয়ে মোট প্রায় ০.৭৮ হেক্টর বনজমি এই দুই প্রকল্পের জন্য ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে রায়গড়ের প্রকল্পে ম্যানগ্রোভ বনভূমি রয়েছে, আর অমরাবতীর জমি সংরক্ষিত ও চিহ্নিত বনাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।তবে সরকারি নির্দেশিকায় এই জমির বদলে ক্ষতিপূরণমূলক বনসৃজনের কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। পরিবেশ ও বনাঞ্চলের উপর প্রকল্প দুটির প্রভাব নিয়েও নির্দেশিকায় অতিরিক্ত কোনও তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রে আদানির দুই প্রকল্পে ৮৩,৭০০ বর্গফুট বনভূমি ব্যবহারে অনুমতি দিল রাজ্য সরকার!
Popular Categories


