ভোটের আগে মালদার এক গ্রামে ভোটার তালিকা ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা। পুরাতন মালদা ব্লকের মহিষবাথানি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রায় ২৭ হাজার ভোটারের মধ্যে হঠাৎ করেই প্রায় ৩৭০০ জনের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—আসন্ন নির্বাচনে আদৌ কতজন ভোট দিতে পারবেন।
সম্প্রতি প্রকাশিত এসআইআর প্রক্রিয়ার পর নতুন তালিকা দেখে অনেক বাসিন্দাই হতবাক হয়ে যান। তাঁদের আশঙ্কা, নাম বাদ পড়ার কারণে ভবিষ্যতে তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। যদিও নিয়ম অনুযায়ী নাম বাদ পড়া ভোটাররা আপিল করতে পারেন ট্রাইবুনালে, তবে সেই প্রক্রিয়ায় সময় লাগায় প্রথম দফার ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। পাশাপাশি, কীভাবে আবেদন করতে হবে তা নিয়েও অনেকেই পরিষ্কারভাবে জানেন না, বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই এলাকায়।
গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় ভোটের আগে যে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যেত, এবার তার ছাপ প্রায় নেই বললেই চলে। কদমতলি, রাহুতগ্রাম, বালুয়াটোলা ও শুখাবাথানসহ একাধিক গ্রামে দেখা যাচ্ছে না দেওয়াল লিখন, পোস্টার বা পতাকা। উৎসবের বদলে এখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে এক ধরনের উদ্বেগ ও নিরুৎসাহ।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অনেক বুথে কয়েকশো নাম বাদ পড়েছে। এর ফলে ভোটের প্রতি আগ্রহও কমে গেছে। কদমতলির বাসিন্দা আসগর আলি জানান, আগে ভোট এলেই এলাকায় উৎসবের পরিবেশ তৈরি হতো, কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁর দাবি, তাঁর বুথেও বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে, ফলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। একই মত জানিয়েছেন মুস্তাক আলি ও সাকিন নওশাদ। তাঁদের কথায়, ভোট দিতে না পারলে স্বাভাবিকভাবেই উৎসাহ হারিয়ে যায় এবং মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এই পরিস্থিতিকে গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন কংগ্রেস প্রার্থী ভূপেন্দ্রনাথ হালদার। তাঁর বক্তব্য, শুধু মহিষবাথানি নয়, মালদা জুড়ে বহু মানুষের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বিজেপি প্রার্থী গোপাল চন্দ্র সাহা অবশ্য ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, নির্বাচন কমিশনের নিয়মে কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার কথা নয়, এবং যে ত্রুটি হয়েছে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। মালদার এই পরিস্থিতি ভোটের আগে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।


