Tuesday, July 21, 2026
26.2 C
Kolkata

অসম নির্বাচনের আগে মুসলিমদের ও বিরোধী নেতাকে নিশানা করে ‘AI-ভিত্তিক ভুয়ো তথ্যের অস্ত্রায়ন’—চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ

আসন্ন অসম বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একটি নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ সংস্থার রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এবার ভোটের আগে এমন কিছু প্রবণতা দেখা যাচ্ছে যা আগে কখনও এত বড় আকারে দেখা যায়নি। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং সরকারি স্তরে নির্দিষ্ট বক্তব্য প্রচারের মধ্যে এক ধরনের যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া গেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

মানবাধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘ডায়াসপোরা ইন অ্যাকশন ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে অন্তত ৪৩২টি এআই-তৈরি পোস্ট ছড়ানো হয়েছে, যা প্রায় ৪ কোটি ৫৪ লক্ষ বার দেখা হয়েছে। এই পোস্টগুলো একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, যার মোট অনুসরণকারী সংখ্যা ৪০ কোটিরও বেশি।

রিপোর্ট অনুযায়ী, কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী গৌরব গগৈকে লক্ষ্য করে অন্তত ৩১টি ডিপফেক ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। এসব ভিডিওতে তাঁকে কখনও পাকিস্তানের এজেন্ট, কখনও বা মুসলিমদের পক্ষপাতী হিসেবে দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁর স্ত্রী এলিজাবেথ কোলবার্নকেও টার্গেট করে একাধিক এআই ভিডিও তৈরি করা হয়েছে, যদিও তিনি কোনও রাজনৈতিক পদে নেই।

এছাড়াও, একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ‘পলিটুনস’ একাই ১০০-র বেশি এআই পোস্ট করে প্রায় ৪ কোটি ভিউ পেয়েছে, যা মোট ভিউয়ের বড় অংশ। এক ঘটনায় দেখা যায়, একটি এআই ভিডিওতে মুখ্যমন্ত্রীকে মুসলিমদের গুলি করতে দেখানো হয়েছে। পরে সেই ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, অসমের মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে চারভাবে চাপ তৈরি করা হচ্ছে—তাদের অমানবিকভাবে দেখানো, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া, এবং সাংস্কৃতিকভাবে মুছে ফেলার চেষ্টা।

ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রকাশ্যে বলেন, ‘৪ থেকে ৫ লক্ষ মিয়া ভোট বাদ যাবে’। এরপরই প্রায় ২ লক্ষ ৪৩ হাজার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে বলে রিপোর্টে দাবি। একই সঙ্গে নতুন সীমানা নির্ধারণে মুসলিম অধ্যুষিত আসনের সংখ্যা কমে যায়। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন এইসব ঘটনায় কার্যত কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। একাধিক নিয়মভঙ্গের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, অসমে যে কৌশল ব্যবহার হচ্ছে, তা শুধু একটি রাজ্যে সীমাবদ্ধ নয়—ভবিষ্যতে দেশের অন্যত্রও তা প্রয়োগ হতে পারে, যা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগের কারণ।

Hot this week

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

Topics

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

‘ঘোর পাপ হয়েছে’—দু’মাস পর নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে মুখ খুললেন মোদি

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। অনেক...

দশ বছরে সংঘ-ঘনিষ্ঠ ২০ সংস্থাকে ৬৬৮ কোটির বেশি অনুদান! ওএনজিসির সিএসআর তহবিল নিয়ে বিতর্ক

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থাকে সরকারি...

Related Articles

Popular Categories