নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিও ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে আপত্তিকর ও বিকৃত ছবি এবং ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে হায়দরাবাদ সাইবার ক্রাইম পুলিশ মেটার ভারতীয় প্রধান-সহ একাধিক ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সোশাল মিডিয়ার দায়িত্ব এবং অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৯ জুলাই বিজেপির তেলেঙ্গানা শাখার সোশাল মিডিয়া সেলের সদস্য টি সাইকিরণ গৌড় হায়দরাবাদ সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ জানান। তাঁর দাবি, সেদিন সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একাধিক পোস্ট ও রিল প্রকাশিত হয়, যেখানে বিকৃত ছবি ব্যবহার করা হয়েছে এবং অশালীন ভাষায় মন্তব্য করা হয়েছে। অভিযোগকারীর মতে, এই ধরনের কনটেন্ট সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে এবং সামাজিক সম্প্রীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।অভিযোগের সঙ্গে প্রায় ২০টি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম পোস্ট এবং রিলের লিঙ্ক পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই পোস্টগুলির মাধ্যমে ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর পাশাপাশি সমাজে বিভাজনের পরিবেশ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে মেটার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এই ধরনের কনটেন্ট দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে থেকে যাওয়ায় তা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছে।এই অভিযোগের ভিত্তিতে হায়দরাবাদ সাইবার ক্রাইম থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫৩(২) ও ৩৩৬(৪) ধারা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬(সি) ও ৬৭ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাইবার ক্রাইম শাখার এক তদন্তকারী আধিকারিককে।তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলির প্রকৃত ব্যবহারকারীদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে মেটার কাছ থেকেও প্রযুক্তিগত তথ্য ও অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নথি চাওয়া হতে পারে। তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।সম্প্রতি নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চলেছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ককরোজ জনতা পার্টি-এর ব্যানারে হওয়া প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে প্রকাশিত কিছু পোস্টও তদন্তের আওতায় এসেছে।এখনও পর্যন্ত এই ঘটনার বিষয়ে মেটার পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। সংস্থার ভারতীয় প্রধানও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। যেসব সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের পক্ষ থেকেও এখনও কোনও বিবৃতি সামনে আসেনি।আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই মামলার তদন্তে দুটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রথমত, আপত্তিকর কনটেন্ট প্রকাশ করলে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট পরিচালকদের আইনি দায় কতটা। দ্বিতীয়ত, সেই কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মে থেকে গেলে প্রযুক্তি সংস্থার দায়বদ্ধতার সীমা কোথায়। তাই এই মামলার ফলাফল ভবিষ্যতে সামাজিক মাধ্যম পরিচালনা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহি নিয়ে বড় ধরনের আলোচনার পথ খুলে দিতে পারে।
Popular Categories


