উত্তরাখণ্ডের পর্যটন কেন্দ্র মুসৌরিতে অষ্টাদশ শতকের সুফি সাধক ও দার্শনিক কবি বাবা বুল্লে শাহের স্মৃতিবিজড়িত এক মাজারে ভাঙচুরের ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির নামও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযুক্তরা একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। ঘটনাটি ঘটে শনিবার। মুসৌরির উইনবার্গ-অ্যালেন স্কুল চত্বরে অবস্থিত ওই মাজারে লোহার রড ও হাতুড়ি নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। মাজারের ভেতরে রাখা ধর্মীয় বইপত্রও নষ্ট করা হয়েছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত তিনজনের নাম হরিওম, শিবায়ুন ও শ্রদ্ধা। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা, জনশান্তি বিঘ্নিত করা এবং ধর্মীয় স্থানে আঘাত বা অপমান করার মতো গুরুতর অভিযোগ। যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। দেহরাদুনের সিনিয়র সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশ অজয় সিং জানান, স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরেই এই মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাবা বুল্লে শাহ কমিটির সভাপতি রজত আগরওয়াল অভিযোগ করেন, এই ঘটনা শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুর নয়, বরং মুসৌরির শান্ত পরিবেশ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত চেষ্টা।উল্লেখ্য, কিছু সংগঠন আগেই মাজার সম্প্রসারণ নিয়ে আপত্তি তুলেছিল এবং এটিকে সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণ বলে দাবি করেছিল। তবে কমিটির পক্ষ থেকে সেই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, এটি একটি বেসরকারি স্কুলের জমিতে বহু বছর আগে অনুমতি নিয়ে তৈরি হয়েছিল এবং প্রশাসনিক তদন্তেও কোনও দখলের প্রমাণ মেলেনি। জানা গিয়েছে, ১৭৫৭ সালে প্রয়াত সুফি কবি বাবা বুল্লে শাহের সমাধি বর্তমানে পাকিস্তানের কাসুরে অবস্থিত। তার দর্শন ও কবিতা আজও দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বার্তা বহন করে।
মুসৌরিতে সুফি কবি বুল্লে শাহের স্মৃতিস্থলে ভাঙচুরের অভিযোগ হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের ৩ জন সদস্যের বিরুদ্ধে
Popular Categories


