রাজস্থানের খৈরতল-তিজারা জেলার ভিওয়াড়ি শহর থেকে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর সামনে এসেছে। অভিযোগ, পুলিশের হেফাজতে এক ১৬ বছরের দলিত কিশোরকে মারধর করা হয়েছে। এই ঘটনায় এক থানার ওসি-সহ মোট চারজন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।জানা গিয়েছে, নির্যাতিত কিশোরের নাম লোকেশ। গত ২১ এপ্রিল একটি মোটরসাইকেল চুরির মামলায় তাকে আটক করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে দেখা গিয়েছিল বলে দাবি পুলিশের। এরপর তাকে ভিওয়াড়ির ইউআইটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।লোকেশের পরিবারের অভিযোগ, থানায় নিয়ে যাওয়ার পর তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। পরিবারের দাবি, তাকে “থার্ড ডিগ্রি” নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছে এবং চিকিৎসাধীন রয়েছে।এই ঘটনায় ২৭ এপ্রিল লোকেশের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের হয়। অভিযোগে মারধর ছাড়াও তফসিলি জাতি ও উপজাতি (নির্যাতন প্রতিরোধ) আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন থানার ওসি দারা সিং মীনা এবং কনস্টেবল গোপাল, গোবিন্দ ও পবন যাদব।তবে পুলিশের পক্ষ থেকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে। জেলার পুলিশ সুপার ব্রিজেশ জ্যোতি উপাধ্যায় জানিয়েছেন, কিশোরের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল।ঘটনাটি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। রাজস্থানের বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা টিকারাম জুল্লি এই ঘটনাকে তীব্রভাবে নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, “এই ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং মানবতার ওপর আঘাত।” তার অভিযোগ, বর্তমান রাজ্য সরকারের আমলে দলিত, গরিব ও মহিলাদের ওপর অত্যাচার বেড়েই চলেছে।তিনি আরও বলেন, “যখন রক্ষকরাই ভক্ষক হয়ে ওঠে, তখন সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?” জুল্লির দাবি, প্রথমদিকে অভিযোগ দায়ের করতে গিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারকে চাপের মুখে পড়তে হয়েছে এবং দেরিও হয়েছে। এছাড়াও তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য তুলে ধরে বলেন, রাজস্থানে সাম্প্রতিক সময়ে হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা বেড়েছে, যা আইনের শাসন নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে।
Popular Categories


