দিল্লির সরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসা সামগ্রী কেনাকাটা ঘিরে বড়সড় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভিজিল্যান্স তদন্তে এমন কিছু তথ্য উঠে এসেছে, যা নিয়ে রাজধানীর প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য দপ্তরকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে।তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লি সরকারের অধীনস্থ বিভিন্ন হাসপাতালের ইনডোর বিভাগে মোট শয্যার সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার। অথচ সেই তুলনায় অস্বাভাবিক সংখ্যক বিছানার চাদর কেনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি দামে বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী এবং যন্ত্রপাতি কেনার অভিযোগও উঠেছে।তদন্তে দাবি করা হয়েছে, সাধারণ বাজারে যে চাদরের দাম প্রায় ১৫০ টাকা, তা কয়েক গুণ বেশি দামে কেনা হয়েছে। একইভাবে ওআরএস প্যাকেট, এক্স-রে মেশিন এবং অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রেও বড় অঙ্কের অতিরিক্ত খরচ হয়েছে বলে অভিযোগ। বিশেষ করে পোর্টেবল এক্স-রে মেশিন ও রেডিওলজির কাজে ব্যবহৃত কিছু যন্ত্রপাতির দাম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তকারীদের মতে, বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দিল্লি সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরের দুই শীর্ষ আধিকারিককে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন শাখা। তাঁদের মধ্যে ডিরেক্টর জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসও রয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর থেকেই বিষয়টি রাজনৈতিক রূপ নিতে শুরু করেছে।আম আদমি পার্টির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ অভিযোগ করেছেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সরকারি হাসপাতালগুলির চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে সব দায়িত্ব একটি কেন্দ্রীয় ক্রয় সংস্থার হাতে তুলে দেয়। তাঁর দাবি, এরপর থেকেই অনিয়মের সূত্রপাত হয়। বিশেষ করে বিপুল সংখ্যায় ওআরএস কেনা এবং তা নিয়ে প্রচার চালানোর পিছনেও আর্থিক স্বার্থ জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, অনিয়মের তথ্য সামনে আসার পরই সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্তও চলছে। তাদের দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।বর্তমানে দিল্লি সরকারের অধীনে ৪২টি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালিত হয়। রাজধানীর বিপুল সংখ্যক মানুষ সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর নির্ভরশীল। তাই চিকিৎসা সামগ্রী কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।বিরোধীদের প্রশ্ন, হাসপাতালগুলির নিজস্ব কেনাকাটার ক্ষমতা বন্ধ করে সমস্ত ক্রয় একটি নির্দিষ্ট সংস্থার হাতে কেন্দ্রীভূত করার সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তর এবং অভিযোগের সত্যতা জানতে এখন তদন্তের অগ্রগতির দিকেই নজর রয়েছে সকলের।
দিল্লিতে ৬৫০ কোটির স্বাস্থ্য কেলেঙ্কারি! ১৫ টাকার ওআরএস কেনা হল ২০৫ টাকায়, প্রশ্নের মুখে কেন্দ্র সরকার
Popular Categories


