লোকসভায় সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক চরমপন্থা নিয়ে আলোচনার সময় জম্মু ও কাশ্মীরের সাংসদ আগা সৈয়দ রুহুল্লাহ মেহদি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। তিনি দাবি করেন, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার দেশকে বামপন্থী চরমপন্থা থেকে মুক্ত করার কথা বললেও, বাস্তবে তা ডানপন্থী চরমপন্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মেহদি বলেন, “সরকার একদিকে বামপন্থী চরমপন্থা বন্ধ করার প্রচেষ্টা দেখায়, কিন্তু অন্যদিকে ডানপন্থী চরমপন্থা ক্রমবর্ধমান।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, মুসলিম ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক চরমপন্থা নিয়ে কখন সংসদে আলোচনা হবে। সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ন্যাশনাল কনফারেন্সের এই সাংসদ বলেন, “চরমপন্থা কি শুধু কোনও এক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত? আমাদের দেশে সব ধরনের চরমপন্থা বন্ধ হওয়া উচিত—এটি মুসলিম বা হিন্দুত্ববাদী উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।” তিনি শান্তি, ন্যায়বিচার, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক স্বাভাবিকতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন এবং প্রশ্ন তোলেন, কেন সরকার নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে।
মেহদি আরও উল্লেখ করেন, চরমপন্থার মূল কারণ সমাজের অন্যায়। তিনি জানান, তার বাবা আগা সৈয়দ মেহদি ছিলেন কাশ্মীরের প্রখ্যাত শিয়া ধর্মগুরু ও রাজনীতিবিদ, যিনি ২০০০ সালের ৩ নভেম্বর একটি বিস্ফোরণে নিহত হন। তিনি বলেন, “আমরা চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই করব, কিন্তু সমাজের অন্যায় দূর করাও জরুরি।”
সংসদে তিনি অভিযোগ করেন, মুসলিম ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নানা ধরনের বৈষম্য ও হেনস্থা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের বলা হয় আমরা বিদেশি, আমাদের অর্থনৈতিকভাবে হেনস্থা করা উচিত। কিছু ক্ষেত্রে ভিজিলান্টিজম বাড়ছে ‘গোরক্ষা’ ও ‘লাভ জিহাদ’-এর নামে।”
মেহদি দাবি করেন, হিন্দুত্ববাদী চরমপন্থা ও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক হেনস্থা নিয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত, যাতে সমগ্র সমাজে ন্যায়বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।


