নতুন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশিকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মঙ্গলবার সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় এত সদস্য থাকা সত্ত্বেও কেন এমন একজনকে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যিনি একসময় বিলকিস বানো মামলার দোষীদের মুক্তির সিদ্ধান্তের পক্ষে মন্তব্য করেছিলেন।
রাহুল গান্ধীর দাবি, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সম্প্রতি ছাত্র-ছাত্রীদের একাধিক আন্দোলন হয়েছে। সেই আন্দোলনে বহু শিক্ষার্থী, বিশেষ করে ছাত্রীদের উপর পুলিশি পদক্ষেপের অভিযোগও উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষা দফতরের দায়িত্ব এমন একজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, যাঁর অতীতের মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক রয়েছে। তাঁর কথায়, এই নিয়োগ দেশের মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।
এই বিতর্ককে আরও জোরালো করতে কংগ্রেস একটি পুরনো ভিডিও প্রকাশ করেছে। ২০১৮ সালের ওই ভিডিওতে প্রহ্লাদ জোশিকে বলতে শোনা যায়, বিলকিস বানো মামলায় দোষী সাব্যস্ত ১১ জনকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত আইন মেনেই নেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য ছিল, ওই ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন এবং তাঁদের আচরণও বিবেচনা করা হয়েছিল। সেই কারণেই মুক্তির সিদ্ধান্তে তিনি কোনও অসঙ্গতি দেখেননি।
একই ইস্যু সংসদেও তোলেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আনা একটি বিল নিয়ে আলোচনার সময় তিনি বলেন, ধর্ষণ মামলার দোষীদের মুক্তির পক্ষে মত দেওয়া একজনকে শিক্ষামন্ত্রী করা হলে সমাজে ভালো বার্তা যায় না। বিশেষ করে যখন কেন্দ্রীয় সরকার নারী নিরাপত্তা ও মহিলাদের অধিকার রক্ষার কথা বলে, তখন এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বক্তব্যের পর বিজেপি সাংসদরা আপত্তি জানান এবং তাঁর দাবি প্রমাণ করার কথা বলেন। জবাবে তিনি জানান, কংগ্রেসের কাছে ওই মন্তব্যের ভিডিও রয়েছে এবং প্রয়োজনে তা প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার সময় বিলকিস বানোর গণধর্ষণ এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় ১১ জন দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। পরে গুজরাট সরকার তাঁদের সাজা মকুব করে মুক্তি দেয়। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট সেই মুক্তির নির্দেশ বাতিল করে জানায়, আইনগত ভিত্তি ছাড়াই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।


