উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে নীল বিদ্রোহের পুরোধা তিতুমীরের স্মৃতি মুছে ফেলার এক নজিরবিহীন ঘটনা সামনে এল। জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের ঐতিহ্যবাহী ‘তিতুমীর সভাকক্ষ’-এর নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘শ্যামাপ্রসাদ ভবন’। ‘অখণ্ড ভারত সংকল্প’ সপ্তাহ উদ্যাপনকালে একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের তরফে প্রশাসনিক গৃহের দেওয়াল থেকে ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের প্রতীক তিতুমীরের প্রতিকৃতি নামিয়ে সেখানে ‘ভারত কেশরী’ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবি বসানো হয়।
সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা প্রকাশ্যে দাবি জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনা দরকার ছিল। সেই লক্ষ্যেই এই নামবদল করা হয়েছে। ঘটনার সমর্থনে স্থানীয় পদ্ম শিবিরের আইন শাখার প্রতিনিধিরা মন্তব্য করেন যে, ভারতের জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে তিতুমীরের চেয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।
উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে অবিভক্ত ২৪ পরগনা বিভাজনের মাধ্যমে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ গঠিত হওয়ার পর থেকেই বাদুড়িয়ার ভূমিপুত্র তথা প্রখ্যাত আন্দোলনকারী তিতুমীরের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই সভাগৃহের নাম রাখা হয়েছিল। ঊনবিংশ শতকে ইংরেজ শাসক ও অত্যাচারী ভূস্বামীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলে ‘বাঁশের কেল্লা’র লড়াইয়ে আত্মবলিদান দিয়েছিলেন তিনি। প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রে ঐতিহ্যের এমন পরিবর্তন ও প্রতিকৃতি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জোর আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।


