গাজার মধ্য ও উত্তর অংশে ফের একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। মঙ্গলবারের এই হামলায় একটি মসজিদ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। পাশাপাশি সেখানে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত বহু ফিলিস্তিনি পরিবারের অস্থায়ী তাবুও ভেঙে পড়ে। এই ঘটনায় অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৪ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি সূত্রে জানা গেছে।
সবচেয়ে বড় হামলাগুলির একটি হয় গাজা শহরের আল-মুত্তাকিন মসজিদ এলাকায়। এই মসজিদের চারপাশে বহু পরিবার তাবু খাটিয়ে বসবাস করছিল। যুদ্ধের শুরুতেই তাঁদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে তাঁরা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। হামলার পর মসজিদের পাশাপাশি আশপাশের অস্থায়ী আশ্রয়ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। আশপাশের কয়েকটি বাড়ি ও সাধারণ মানুষের সম্পত্তিরও ক্ষতি হয়েছে। ফলে বহু মানুষ আবারও মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে বিস্ফোরণের পর চারদিকে ধোঁয়া, ধুলোর মেঘ এবং ধ্বংসস্তূপের ছবি দেখা গিয়েছে। তবে সেই ভিডিওগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ফিলিস্তিনের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রকের দাবি, ২০২৪ সালের মধ্যেই গাজা জুড়ে অন্তত ৮১৫টি মসজিদ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া আরও ১৫১টি মসজিদ আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক হামলার পর এই সংখ্যা আরও বেড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার গাজার আরও কয়েকটি এলাকায় হামলা চালানো হয়। কিছু জায়গায় হামলার আগে বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার জন্য অল্প সময়ের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের একটি ব্যস্ত বাজারে বিমান হামলায় আহমেদ হুসেইন কাফিনা নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। সেখানে আরও নয়জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে গাজা শহরের রিমাল এলাকায় একটি আবাসনের ছাদে ড্রোন হামলায় তিনজন আহত হন। এছাড়া দেইর আল-বালাহর পূর্ব দিকে গুলিবিদ্ধ হয়ে আরও দু’জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
এদিকে গত বছর আন্তর্জাতিক মহলের উদ্যোগে যুদ্ধবিরতির একটি কাঠামো ঘোষণা হলেও গাজায় এখনও সামরিক অভিযান চলছে। সম্প্রতি ইজরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা নীতিগতভাবে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর প্রথম সদস্যদের প্রবেশে সম্মতি জানিয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেমের কাছে এক ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া, একটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া এবং দেওয়ালে লেখা করার অভিযোগ উঠেছে কিছু বসতি স্থাপনকারীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর ওই পরিবারের আট সদস্য নিরাপত্তার জন্য এলাকা ছেড়ে চলে যান।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য সূত্রের দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে গাজায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৩২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৭৪ হাজার ৯ জন।


