Saturday, June 6, 2026
32.8 C
Kolkata

পার্ক সার্কাস হজ হাউসের পাশে ছাত্রী নিবাস নির্মাণের জন্য পূর্বতন সরকারের বরাদ্দকৃত ১২ কাঠা জমি এখনও পড়ে রয়েছে। কেন ও কি কারণে?

ডঃ আব্দুর সাত্তার
পার্ক সার্কাস, দিলখুশা স্ট্রীটে মেয়েদের ছাত্রাবাসে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে পড়তে আসা পড়ুয়াদের জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। স্থান না পেয়ে শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন জায়গায় মেসে বাধ্যতামূলক অবলম্বন হিসেবে তাদের থাকতে হয়। বাবা – মাও উদ্বেগে থাকেন। সেই কথা ফোন করে আমাকে বলতেনও। তাই আরও একটি ছাত্রী আবাস নির্মাণ প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সমস্যা হলো জমি কোথায় পাওয়া যাবে? তাছাড়া নিরাপত্তার বিষয়টিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া, এই রাস্তার উপরেই এ. কে. ফজলুল হক- এর নামে কর্মরত মুসলিম মহিলা নিবাসের কাজ চলছিল।
জানতে পারলাম দিলখুশা স্ট্রীটে হজ হাউসের পাশেই কলকাতা কর্পোরেশনের ১২ কাঠা জমি আছে। চেষ্টা শুরু করলাম। তৎকালীন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ও বামফ্রন্টের চেয়ারম্যানকে বিষয়টির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বললাম। তাঁরা রাজি হলেন। সেই সময় মেয়র ছিলেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। মাননীয় বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান কমরেড বিমান বসু তাঁকে এই প্রস্তাবের কথা বলতেই তিনি বললেন, এই জমি তো পি আর সি চেয়েছে জনস্বাস্থ্যের- এর সার্বিক উন্নতির জন্য। আমি কথাও দিয়ে দিয়েছি। এটা ঠিক যে, পি আর সি – এর এই ক্ষেত্রে এক উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। যাই হোক, শেষ পর্যন্ত ১ টাকার বিনিময়ে জমি পাওয়া গেল। কর্পোরেশন সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরকে জমি হস্তান্তর করে দিল।
অতঃপর সেই জমিতে সাত তলা ছাত্রী আবাস নির্মাণের জন্য পি ডব্লিউ ডি -কে দায়িত্ত্ব দেওয়া হলো। নিচের তলা অনুষ্ঠানের জন্য, প্রথম তলা ডিজিটাইজ গ্রন্থাগার ও বাকি পাঁচটি তলা থাকবে মেয়েদের বসবাসের জন্য। পি ডব্লিউ ডি কাজ শুরু করতে গিয়ে প্রতিরোধের মুখে পড়ল। আমাকে সেখানে দাঁড়িয়ে শুনতে হলো এখানে কোনো ধরনের নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। ফাঁকা জমি ফাঁকা রাখতে হবে। না – হলে নাকি ব্যাপক গোলমাল হবে! সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম, রিজওয়ানুর মামলা, আলিয়ার পার্ক সার্কাস ক্যাম্পাসের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে কালো পতাকা প্রদর্শন — সব মিলিয়ে পরিস্থিতির গুণগত পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। বোঝানো হলো, কে, কোথা থেকে নির্দেশ দিচ্ছেন? পুলিশ প্রশাসনও ঝুঁকি নিতে চাইছিল না। ছাত্রী আবাস নির্মাণ আর হলো না।
প্রায় ১৩ বছরের বেশি এই জমি পড়ে রয়েছে। এই সরকারও ১০ বছরে কোনও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেয় নি। সরকার এই জমিতে ছাত্রী আবাস নির্মাণ করে কি কৃতিত্ব নিতে পারত না? অন্তত জেলা থেকে পড়তে আসা পড়ুয়াদের জায়গা দেওয়া যেত। বাবা – মা – পরিবার – পরিজন একটু হলেও নিশ্চিন্ত হতে পারতেন।
সেই সময় কেউ পাশে দাড়ায় নি। বরং চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে বিরোধিতা করেছিল। এই সময়ে কিছুই তো আর সেই ভাবে হলো না। যেটুকু করা গিয়েছিল, সেটুকুও অন্তত রক্ষা হোক। তার জন্য যারাই চেষ্টা করবে তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ ।

Hot this week

১৩ কোটির দেনা মাথায় নিয়ে মহামেডানের ব্যাটন ধরলেন হুমায়ুন কবির

শেষ পর্যন্ত তীব্র ক্ষোভ আর আর্থিক অনটনের জেরে বড়সড়...

আরজিকর মামলায় সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন নির্যাতিতার বাবা, আদালতে বিস্ফোরক অভিযোগ!

আরজিকর হাসপাতালের অভয়া কাণ্ডে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।...

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র যাদবের পদত্যাগের দাবিতে আজ যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির প্রথম বিক্ষোভ কর্মসূচি!

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র যাদবের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে প্রথম...

তপ্ত দক্ষিণবঙ্গে এবার স্বস্তি, আজ বিকেলেই কালবৈশাখীর দাপট!

অবশেষে তপ্ত বাংলায় স্বস্তির নিঃশ্বাস। একদিকে ভারতের মূল ভূখণ্ড...

Topics

১৩ কোটির দেনা মাথায় নিয়ে মহামেডানের ব্যাটন ধরলেন হুমায়ুন কবির

শেষ পর্যন্ত তীব্র ক্ষোভ আর আর্থিক অনটনের জেরে বড়সড়...

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র যাদবের পদত্যাগের দাবিতে আজ যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির প্রথম বিক্ষোভ কর্মসূচি!

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র যাদবের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে প্রথম...

তপ্ত দক্ষিণবঙ্গে এবার স্বস্তি, আজ বিকেলেই কালবৈশাখীর দাপট!

অবশেষে তপ্ত বাংলায় স্বস্তির নিঃশ্বাস। একদিকে ভারতের মূল ভূখণ্ড...

খাবার ও অক্সিজেন ছাড়াই এভারেস্টে সাত দিন, জীবিত উদ্ধার হলেন দাওয়া শেরপা!

বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে এক অবিশ্বাস্য ঘটনার সাক্ষী...

Related Articles

Popular Categories