রবিবার মধ্যরাতে কলকাতার আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় একটি মোমো তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন এতটাই ভয়ংকর ছিল যে প্রায় ৩২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। দমকল বাহিনী দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যায়।
এই ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে যান রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। তিনি দগ্ধ গোডাউন এলাকা ঘুরে দেখেন এবং দমকল বিভাগের ডিজির সঙ্গে কথা বলেন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবে। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। এখানেই প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। কেনো আগুন লাগার ৩২ ঘণ্টা পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছালেন পশ্চিমবঙ্গের দমকল মন্ত্রী সুজিত বোসু? সূত্র মারফত জানা গেছে, প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন, অর্থাৎ যেদিন আগুন লাগে, তার পরিচিত এলাকা লেকটাউনেই ছিলেন তিনি। আনন্দপুর থেকে লেকটাউনের দূরত্ব আনুমানিক ৮ কিলোমিটার। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। দমকল বিভাগের ডিজি স্বীকার করেছেন যে, ওই কারখানার দমকলের কোনও অনুমোদন ছিল না। ফলে প্রশ্ন উঠছে, দিনের পর দিন কীভাবে অনুমোদনহীন কারখানা চলছিল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক ছিল কিনা।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মৃত কর্মীদের পরিবারকে রাজ্য সরকার ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থা Wow Momo-ও আর্থিক সহায়তা করবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। Wow Momo সংস্থার তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানো হয়েছে, নিহত কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে ইতিমধ্যেই সংস্থার প্রতিনিধিরা দেখা করেছেন। ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি মৃত কর্মীদের পরিবারকে আজীবন বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সংস্থা। তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং Wow Momo-র তরফ থেকে মৃত কর্মীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে ভিজলো না চিড়ে। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে, কেন ঘটনাস্থলে পৌঁছলেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? জলাভূমি বুঝিয়ে Wow Momo-র বেআইনি ভাবে গুদাম তৈরি করলো কি ভাবে? দুর্ঘটনায় মৃত ব্যক্তিদের সংখ্যার পাশাপাশি, এই প্রশ্নের উত্তরও অধরা।


