Tuesday, July 21, 2026
26.2 C
Kolkata

পৃথিবী ধ্বংসের কারণ হতে পারে গ্রহাণু ২০২৪ ওয়াইআর৪-এর সম্ভাব্য সংঘর্ষ : ২০৩২ সালেই কি ধ্বংস হবে পৃথিবী ?

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫: গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের নজর কেড়েছে গ্রহাণু ২০২৪ ওয়াইআর৪ (2024 YR4)। এই গ্রহাণুটির ২০৩২ সালের ২২ ডিসেম্বর পৃথিবীর সাথে সংঘর্ষের সম্ভাবনা প্রায় ২% বলে জানিয়েছে নাসা এবং ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি (ESA) । যদিও এই সম্ভাবনা অত্যন্ত কম, তবুও এটি “টরিনো স্কেল”-এ ৩ নম্বর স্তরে রয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে ধ্বংসাত্মক প্রভাবের ইঙ্গিত দেয় ।

গ্রহাণুটির ব্যাস ৪০-৯০ মিটার (১৩০-৩০০ ফুট) এবং এটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে প্রায় ১৭ কিমি/সেকেন্ড গতিতে । এটি ১৯০৮ সালের টুংগুস্কা ঘটনার জন্য দায়ী গ্রহাণুর চেয়ে বড়, যা সাইবেরিয়ায় ২,১৫০ বর্গকিমি বনাঞ্চল ধ্বংস করেছিল ।

যদি সংঘর্ষ হয়, তবে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণ আমেরিকা, আটলান্টিক, আফ্রিকা বা দক্ষিণ এশিয়ায় আঘাত হানতে পারে । ৯০ মিটার আকারের ক্ষেত্রে এটি একটি শহর ধ্বংস করতে সক্ষম (“সিটি কিলার”) ।

বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা গ্রহাণুটির গতিপথ ও আকার নির্ধারণে ব্যস্ত। নাসা-র জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ মার্চ ২০২৫-এ ইনফ্রারেড পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এর সঠিক আকার নির্ণয় করবে । ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির-র মতে, এপ্রিলের মধ্যে পর্যবেক্ষণ বন্ধ হয়ে গেলে ২০২৮ সাল পর্যন্ত আর তথ্য সংগ্রহ সম্ভব নয় ।

তবে এখন বাঁচার উপায়?
নাসা-র DART মিশনের মতো একটি মহাকাশযান পাঠিয়ে গ্রহাণুটির গতিপথ পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে ।

কিছু বিজ্ঞানী পারমাণবিক বিস্ফোরণের মাধ্যমে একে বিচ্যুত করার প্রস্তাব দিয়েছেন ।

ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সীর-র মতে, পৃথিবীর মাত্র ৫% এলাকায় জনবসতি থাকায় সংঘর্ষের ক্ষয়ক্ষতি কম হতে পারে ।

বিজ্ঞানীদের মতে, সময়ের সাথে পর্যবেক্ষণ বাড়ার সাথে সংঘর্ষের সম্ভাবনা শূন্যে নেমে আসার সম্ভাবনা বেশি। ২০০৪ সালে অ্যাপোফিস গ্রহাণুর ক্ষেত্রেও একই রকম ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, যা পরে বাতিল হয়েছিল ।

ড. লুকা কনভারসি (ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি) বলেছেন “৯৯% সম্ভাবনা রয়েছে যে এটি পৃথিবীকে অতিক্রম করবে(কোনও রকম সংঘর্ষ না করে)। তবে প্রস্তুতি জরুরি” ।

পল চোডাস (নাসা) বলেন “আমাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সম্ভাবনা শূন্যে পৌঁছাবে” ।

১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, গ্রহাণুটি পৃথিবী থেকে ৪.৮ কোটি কিলোমিটার দূরে রয়েছে এবং দ্রুত দূরে সরে যাচ্ছে । নাসা এবং ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি তাদের ব্লগ ও ওয়েবসাইটে নিয়মিত সাম্প্রতিকতম তথ্য প্রকাশ করছে ।

যদিও ২০২৪ ওয়াইআর৪ নিয়ে উদ্বেগের কিছু কারণ রয়েছে, বিজ্ঞানীদের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং প্রযুক্তির উৎকর্ষে এটি মোকাবিলা সম্ভব। সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, তবে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তুতির গুরুত্ব আবারও প্রমাণিত হলো।

তথ্যসূত্র: NASA, ESA।

Hot this week

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

Topics

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

‘ঘোর পাপ হয়েছে’—দু’মাস পর নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে মুখ খুললেন মোদি

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। অনেক...

দশ বছরে সংঘ-ঘনিষ্ঠ ২০ সংস্থাকে ৬৬৮ কোটির বেশি অনুদান! ওএনজিসির সিএসআর তহবিল নিয়ে বিতর্ক

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থাকে সরকারি...

Related Articles

Popular Categories