Saturday, September 5, 2026
28 C
Kolkata

পৃথিবী ধ্বংসের কারণ হতে পারে গ্রহাণু ২০২৪ ওয়াইআর৪-এর সম্ভাব্য সংঘর্ষ : ২০৩২ সালেই কি ধ্বংস হবে পৃথিবী ?

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫: গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের নজর কেড়েছে গ্রহাণু ২০২৪ ওয়াইআর৪ (2024 YR4)। এই গ্রহাণুটির ২০৩২ সালের ২২ ডিসেম্বর পৃথিবীর সাথে সংঘর্ষের সম্ভাবনা প্রায় ২% বলে জানিয়েছে নাসা এবং ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি (ESA) । যদিও এই সম্ভাবনা অত্যন্ত কম, তবুও এটি “টরিনো স্কেল”-এ ৩ নম্বর স্তরে রয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে ধ্বংসাত্মক প্রভাবের ইঙ্গিত দেয় ।

গ্রহাণুটির ব্যাস ৪০-৯০ মিটার (১৩০-৩০০ ফুট) এবং এটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে প্রায় ১৭ কিমি/সেকেন্ড গতিতে । এটি ১৯০৮ সালের টুংগুস্কা ঘটনার জন্য দায়ী গ্রহাণুর চেয়ে বড়, যা সাইবেরিয়ায় ২,১৫০ বর্গকিমি বনাঞ্চল ধ্বংস করেছিল ।

যদি সংঘর্ষ হয়, তবে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণ আমেরিকা, আটলান্টিক, আফ্রিকা বা দক্ষিণ এশিয়ায় আঘাত হানতে পারে । ৯০ মিটার আকারের ক্ষেত্রে এটি একটি শহর ধ্বংস করতে সক্ষম (“সিটি কিলার”) ।

বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা গ্রহাণুটির গতিপথ ও আকার নির্ধারণে ব্যস্ত। নাসা-র জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ মার্চ ২০২৫-এ ইনফ্রারেড পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এর সঠিক আকার নির্ণয় করবে । ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির-র মতে, এপ্রিলের মধ্যে পর্যবেক্ষণ বন্ধ হয়ে গেলে ২০২৮ সাল পর্যন্ত আর তথ্য সংগ্রহ সম্ভব নয় ।

তবে এখন বাঁচার উপায়?
নাসা-র DART মিশনের মতো একটি মহাকাশযান পাঠিয়ে গ্রহাণুটির গতিপথ পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে ।

কিছু বিজ্ঞানী পারমাণবিক বিস্ফোরণের মাধ্যমে একে বিচ্যুত করার প্রস্তাব দিয়েছেন ।

ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সীর-র মতে, পৃথিবীর মাত্র ৫% এলাকায় জনবসতি থাকায় সংঘর্ষের ক্ষয়ক্ষতি কম হতে পারে ।

বিজ্ঞানীদের মতে, সময়ের সাথে পর্যবেক্ষণ বাড়ার সাথে সংঘর্ষের সম্ভাবনা শূন্যে নেমে আসার সম্ভাবনা বেশি। ২০০৪ সালে অ্যাপোফিস গ্রহাণুর ক্ষেত্রেও একই রকম ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, যা পরে বাতিল হয়েছিল ।

ড. লুকা কনভারসি (ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি) বলেছেন “৯৯% সম্ভাবনা রয়েছে যে এটি পৃথিবীকে অতিক্রম করবে(কোনও রকম সংঘর্ষ না করে)। তবে প্রস্তুতি জরুরি” ।

পল চোডাস (নাসা) বলেন “আমাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সম্ভাবনা শূন্যে পৌঁছাবে” ।

১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, গ্রহাণুটি পৃথিবী থেকে ৪.৮ কোটি কিলোমিটার দূরে রয়েছে এবং দ্রুত দূরে সরে যাচ্ছে । নাসা এবং ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি তাদের ব্লগ ও ওয়েবসাইটে নিয়মিত সাম্প্রতিকতম তথ্য প্রকাশ করছে ।

যদিও ২০২৪ ওয়াইআর৪ নিয়ে উদ্বেগের কিছু কারণ রয়েছে, বিজ্ঞানীদের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং প্রযুক্তির উৎকর্ষে এটি মোকাবিলা সম্ভব। সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, তবে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তুতির গুরুত্ব আবারও প্রমাণিত হলো।

তথ্যসূত্র: NASA, ESA।

Hot this week

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

Related Articles

Popular Categories