পাটনা, বিহারে গত রবিবার গান্ধী ময়দানে এক বিশাল জনসমাবেশে লক্ষাধিক মানুষ ওয়াকফ সংশোধনী আইন, ২০২৫-এর বিরোধিতা করেছেন। ইমারত শরিয়ার ডাকে এই “সংবিধান বাঁচাও, ওয়াকফ বাঁচাও” সম্মেলনে বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে মানুষের ঢল নামে। এই আইন সাংবিধানিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর আঘাত বলে সমালোচনা উঠেছে। সমাবেশে ইমারত শরিয়ার প্রধান মাওলানা ফয়সাল ওয়ালি রহমানি বলেন, “এই আইন সংবিধানের চেতনাকে খর্ব করে। আমরা এর পূর্ণ প্রত্যাহার চাই।” তিনি সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে বলেন, “কাল যদি কেউ ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভের ধর্মীয় প্রতীক নিয়ে দাবি তোলে, তখন কী হবে?”
তেজস্বী যাদব ও সাংসদ রাজীব রঞ্জন যাদবও সরকারের নীতির তীব্র নিন্দা করেন। তেজস্বী বলেন, “বিহারে এনডিএর দিন শেষ। আমরা ক্ষমতায় এলে এই আইন বাতিল করব।” রাজীব যোগ করেন, “এক হাতে গীতা-কোরআন, অন্য হাতে তিরঙ্গা-সংবিধানই ভারতের প্রকৃত শক্তি।”
কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাজ্য সরকারের নীরবতা মানুষের মনে ক্ষোভ জন্ম দিয়েছে। যেখানে বিহারে লক্ষাধিক মানুষ রাস্তায় নেমেছে, সেখানে বাংলার শাসক দলের নিশ্চুপ ভূমিকা প্রশ্ন তুলছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু অধিকারের এই লড়াইয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কি জনগণের পাশে দাঁড়াবে না? সমাবেশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া লোকজনের উদ্যম দেখে মনে হয়, এই আন্দোলন আরও জোরালো হবে। পশ্চিমবঙ্গের নারী সুরক্ষার মতোই এখানেও সরকারের নিষ্ক্রিয়তা তীব্র ভৎসনার দাবি রাখে। সুপ্রিম কোর্টে মামলা চললেও, জনগণের কণ্ঠস্বর এখন রাস্তায়।


