বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আদালত অবমাননার দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। বুধবার ট্রাইব্যুনাল-১-এর প্রধান বিচারপতি গোলাম মোর্তজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ক্লিপ ঘিরে। ওই অডিওতে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, “আমার বিরুদ্ধে ২২৭টা মামলা হয়েছে, তাই ২২৭ জনকে মারার লাইসেন্সও আমার আছে।” আদালতের মতে, এই বক্তব্য বিচার ব্যবস্থার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে। শুধু শেখ হাসিনা নন, ওই ফোনালাপের অপর প্রান্তে থাকা শাকিল আকন্দ বুলবুল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকেও দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল বিষয়টি ট্রাইব্যুনালে আনেন। ফরেনসিক রিপোর্টে অডিওতে হাসিনার কণ্ঠ থাকার প্রমাণ মেলায় ট্রাইব্যুনাল তাদের ২৫ মে’র মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেয়। এরপরও দুটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত জনসমনেও শেখ হাসিন এবং শাকিল আকন্দ বুলবুল সাড়া দেননি। ফলে আদালত তাদের অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করে।
২০২৪ সালের আগস্টে পদত্যাগ করে ভারত পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এটাই তার বিরুদ্ধে প্রথম সাজাপ্রাপ্ত রায়। এর আগে ১ জুন ২০২৫-এ তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগেও অভিযুক্ত করা হয়েছে, যা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত হয়েছিল।


