সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ও নৃশংস ঘটনার সাক্ষী রয়েছে মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলার ছোটি বেতাওয়াদের গ্রামবাসীরা। ২১ বছরের এক মুসলিম যুবক, সুলেমান রহিম খান পাঠানকে পিটিয়ে হত্যা করেছে একদল গোড়া হিন্দুত্ববাদী দুষ্কৃতী। অভিযোগ, গ্রামের এক হিন্দু তরুণীর সঙ্গে দেখা হওয়ার পরই কয়েকজন যুবক তাকে ধরে আক্রমণ করে। জানা গেছে, সুলেমান পুলিশে চাকরির ফর্ম জমা দিতে জামনেরে গিয়েছিলেন। সেখানকার একটি ক্যাফেতে মেয়েটির সঙ্গে দেখা হয়। কিছুক্ষণ পর ৮-১০ জন যুবক ক্যাফেতে গিয়ে সুলেমানের ফোন কেড়ে নেয় এবং তা পরীক্ষা করতে থাকে। তাকে জোর করে গাড়িতে তোলা হয়। একাধিক জায়গায় নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। সুলেমানের আত্মীয় আবদুল্লাহ পাঠান জানিয়েছেন, ঘটনাটি পুলিশ স্টেশনের কাছাকাছি ঘটনার পরও সুলেমানকে কেউ বাঁচাতে আসেনি।
হিন্দুত্ববাদী দুষ্কৃতীদের নির্মম অত্যাচার থেকে বাদ যাননি সুলেমানের পরিবার। সালমানকে মার খেতে দেখে বাঁচাতে যায় সুলেমানের বাবা-মা ও বোন, এর পর তাদেরও মারধর করা হয়। তার ৮০ বছরের দাদাকেও ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়। অবশেষে সুলেমান জ্ঞান হারায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সুলেমানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, হাসপাতালে কতৃপক্ষের তরফ থেকে তাকে ভর্তি করতে অস্বীকার করা হয়। অবশেষে সিভিল হাসপাতালে নিয়ে গেলে, বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, মহারাষ্ট্রের জলগাঁওয়ের আশেপাশের এলাকা থেকে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১২ আগস্ট গ্রেফতার হওয়া চারজন হল অভিষেক রাজকুমার রাজপুত (২২), ঘনশ্যাম ওরফে সুরজ বিহারী লাল শর্মা (২৫), দীপক বাজিরাও (২০) এবং রঞ্জত ওরফে রঞ্জিত রামকৃষ্ণ মাতাদে (৪৮) এবং ১৩ আগস্ট গ্রেফতার হওয়া আরও চারজন হলেন আদিত্য দেবদেব, কৃষ্ণ তেলি, শেজওয়াল তেলি এবং ঋষিকেশ তেলি, যাদের বয়স ২০ বছরের মধ্যে। যদিও তাদের বিরুদ্ধে কী ধারায় মামলা হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। সুলেমানের বাবা বলেন, “আমার ছেলেকে মিথ্যা অভিযোগে হত্যা হলো। ও আমার একমাত্র সন্তান ছিল। যারা ওকে মেরেছে, তাদের কঠিন শাস্তি না পাওয়া পর্যন্ত আমি থামব না।”


