শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলা নিয়ে নতুন করে আলোড়ন তৈরি করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) প্রকাশিত তালিকা। শনিবার কমিশন জানায়, মোট ১,৮০৪ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা অযোগ্য প্রমাণিত হয়েছেন। তাঁদের চাকরি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে শাসক দলের হেভিওয়েট নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের নাম ঘিরে। অভিযোগ উঠছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং সুপারিশের জোরে এঁরা শিক্ষকের চাকরি পেয়েছিলেন।
প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী পরেশ চন্দ্র অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারী, যাঁকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নিয়োগ মামলার তদন্ত বহুবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। হুগলির খানাকুলের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা ও জেলা পরিষদ সদস্য বিভাস মালিকও ‘দাগি’ তালিকায় আছেন। শুধু তিনিই নন, তাঁর স্ত্রী সন্তোষি মালিকও অযোগ্য ঘোষিত হয়েছেন, অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী দু’জনকেই শিক্ষক পদ থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের তৃণমূল সভানেত্রীর কন্যা প্রিয়াঙ্কা মণ্ডলের নামও তালিকায় রয়েছে। খানাকুলের আর এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা নইমুল হকের স্ত্রী নমিতা আদককেও কমিশনের প্রকাশিত তালিকায় পাওয়া গিয়েছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, নইমুল হক পঞ্চায়েত সমিতির একাধিক পদ সামলেছেন, যার প্রভাবেই স্ত্রীর চাকরি নিশ্চিত হয়েছিল বলে অভিযোগ।
এছাড়াও আলোচনায় আছেন হুগলির জেলা পরিষদ সদস্যা সাহিনা সুলতানা। তিন বারের জেলা পরিষদ সদস্যা এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাহিনাকে কমিশন অযোগ্য ঘোষণা করেছে। উত্তর দিনাজপুরের প্রাক্তন জেলা পরিষদ সভাধিপতি কবিতা বর্মণের নামও তালিকায় রয়েছে। যদিও তিনি বর্তমানে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তবে চাকরি পেয়েছিলেন তৃণমূলের আমলে।
এমনকি রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর কুহেলি ঘোষের নামও প্রকাশিত হয়েছে, যিনি ইতিমধ্যেই আইনি লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিয়েছেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার অঞ্চল সভাপতি অজয় মাঝির নামও উঠে এসেছে এই তালিকায়।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, এই তালিকায় আসলে কতজন শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত। কারণ, কমিশন শুধুমাত্র নাম ও রোল নম্বর প্রকাশ করেছে, ঠিকানা বা সংশ্লিষ্ট স্কুলের তথ্য দেয়নি। ফলে নামের বিভ্রাট ও ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই আড়াই হাজারের কাছাকাছি অযোগ্য শিক্ষকের মধ্যে অধিকাংশই শাসক দলের ছত্রছায়ায় চাকরি পেয়েছিলেন।
নিয়োগ দুর্নীতির এই অধ্যায়ে শাসকদলের অন্দরেই চাপা অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। রাজনীতি থেকে শিক্ষা জগৎ, সর্বত্র এখন একটাই প্রশ্ন—“যোগ্যতার বদলে কতটা প্রভাবের জোরে চাকরি গিয়েছিল তাঁদের হাতে?”


