দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন স্বঘোষিত ধর্মগুরু ও শ্রী সারদা ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ান ম্যানেজমেন্টের প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বামী চৈতন্যানন্দ সরস্বতী। গত শনিবার রাত সাড়ে তিনটায়, আগ্রার তাজগঞ্জ এলাকার একটি হোটেল থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ, তিনি ১৭ জনেরও বেশি ছাত্রীকে যৌন হেনস্তা করেছেন এবং প্রতারণার কাজে যুক্ত ছিলেন।
চৈতন্যানন্দ ওরফে পার্থসারথী দিল্লির অভিজাত বসন্ত বুজ এলাকায় একটি বেসরকারি ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট পরিচালনা করতেন। অভিযোগ, তিনি ছাত্রীদের সঙ্গে অসভ্য ভাষায় কথা বলতেন, আপত্তিকর বার্তা পাঠাতেন এবং শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে জোর করতেন। নিপীড়িত ছাত্রীরা জানান, তিনি ছাত্রীদের বিদেশ ভ্রমণের লোভ দেখিয়ে নিজের কক্ষে ডাকতেন। শুধু তাই নয় চৈতন্যানন্দ-এর বিরুদ্ধে, ছাত্রীদের হোস্টেলে গোপনে সিসিটিভি ক্যামেরা অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার সূত্রপাত হয় গত আগস্ট মাসে, যখন এক প্রাক্তন ছাত্রী ইনস্টিটিউটের ম্যানেজমেন্টকে চিঠি লেখেন। এর পরে এয়ার ফোর্সের এক অফিসারও অভিযোগ জানান। দিল্লির ডিফেন্স কলোনি থানায় ১৭ জন ছাত্রী একসঙ্গে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
পুলিশ জানায়, এই মামলার তদন্তে জানা গেছে, চৈতন্যানন্দের নামে থাকা একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও স্থায়ী আমানত মিলিয়ে প্রায় ৮ কোটি টাকা রয়েছে। এছাড়া, তাঁর ট্রাস্টও বড় অঙ্কের অনুদান পেত। তদন্তে একটি জাল জাতিসংঘের কূটনৈতিক নম্বর প্লেটযুক্ত গাড়ি, সিসিটিভি ফুটেজও উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় দেশের নানা প্রান্ত থেকে নিন্দার ঝড় উঠেছে। সাধারণ মানুষ ও শিক্ষাজগতের অনেকেই তাঁর কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।


