বিহারের ভোটার তালিকা নিয়ে এবার শুরু হয়েছে এক নতুন বিতর্ক। সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব অভিযোগ করেছেন, রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৬ লক্ষ মুসলিম ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তার মতে, এই প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও উচ্ছ্বাস প্রকাশের সুযোগ নেই, বরং চূড়ান্ত তালিকা আরও বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।প্রাথমিক তথ্য বলছে, বাদ যাওয়া নামগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ মুসলিম ও মহিলা ভোটারদের। সমীক্ষা অনুযায়ী, বাদ পড়া ৬৫ লক্ষ নামের মধ্যে প্রায় ২৪.৭ শতাংশ মুসলিম। চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়াদের ৩৩ শতাংশই মুসলিম, যদিও রাজ্যের জনসংখ্যায় মুসলিমদের হার মাত্র ১৬.৯ শতাংশ।
এছাড়া ১৬ লক্ষ মহিলা ভোটারের নামও তালিকা থেকে বাদ গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিহারে বরাবরই মহিলা ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে কম ছিল, আর এই প্রক্রিয়া সেই ফারাক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যোগেন্দ্র যাদব ও রাহুল শাস্ত্রী যৌথভাবে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত ‘মিসিং ভোটারস’ শিরোনামের প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে বিহারে বয়স্ক ভোটারের সংখ্যা কমে গেছে ৯৭ শতাংশ থেকে ৮৮ শতাংশে। যদিও চূড়ান্ত তালিকায় কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে, এখন সেই সংখ্যা ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে। তবু সামগ্রিক পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিহারে ৮ কোটি ২২ লক্ষ ভোটার থাকার কথা, কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় নাম রয়েছে মাত্র ৭ কোটি ৪২ লক্ষ ভোটারের। অর্থাৎ প্রায় ৮০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি বিষয়। তারা বলেন, অনেকে মনে করেছিল দুই কোটিরও বেশি নাম বাদ যাবে, কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের ধারাবাহিক নজরদারির ফলে নির্বাচন কমিশন কিছুটা ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ করতে পেরেছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়া আসন্ন নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


