দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি থেকে বীরভূম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে এসআইআর আতঙ্ক। এবার কুলপিতে এক শিক্ষকের মৃত্যুকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। মৃত শিক্ষকের নাম শাহাবুদ্দিন পাইক (৪৫)। তিনি ঢোলাহাটের কিশোরপুর হাই মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। পরিবার দাবি, এসআইআর ঘোষণার পর থেকেই মানসিক দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন তিনি। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজের এবং স্ত্রীর নাম না থাকায় গভীর মানসিক চাপে ছিলেন বলে পরিবারের বক্তব্য।
গত শনিবার ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন শাহাবুদ্দিন। তড়িঘড়ি তাকে ডায়মন্ড হারবার গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। টানা পাঁচ দিন আইসিইউ-তে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বৃহস্পতিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। পরিবারের দাবি, “নাম না থাকায় ভীষণ চিন্তা করছিলেন, সেই আতঙ্কই তাকে কাবু করে দিল।”
রাতেই পরিবারের পাশে দাড়াতে যান মথুরাপুরের তৃণমূল সাংসদ ও কুলপির বিধায়ক। তাদের অভিযোগ, এসআইআর আতঙ্কই এই মৃত্যুর কারণ। তবে বিজেপির দাবি, তৃণমূল মিথ্যা প্রচার করছে। “যেখানে মৃত্যু হচ্ছে, সেখানে তৃণমূল এসআইআর আতঙ্কের গল্প জুড়ে দিচ্ছে,” পাল্টা মন্তব্য পদ্ম শিবিরের। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে বীরভূমেও। সিউড়ির বাসিন্দা বিমান প্রামাণিকের (বাড়ি সাঁইথিয়ায়) মৃত্যুতেও তৃণমূল দাবি করছে, তিনি এসআইআর আতঙ্কের শিকার। পরিবার জানায়, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তার পদবী ভুল লেখা ছিল। এই ভুল দেখে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। এছাড়াও বহরমপুরে এক হকারের আত্মহত্যার ঘটনাতেও একই অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল।


