মালদার মানিকচক ব্লকের দক্ষিণ চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাটা বাঁধ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই ভেঙে পড়েছে। প্রশাসনের একাধিক আশ্বাস সত্ত্বেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। ফলে ক্ষোভ জমেছে এলাকাবাসীর মধ্যে। স্থানীয় বিজেপি পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। চলতি বছরের ১৩ আগস্ট নতুন করে তৈরি রিং বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে। দক্ষিণ চণ্ডীপুর, হীরানন্দপুরসহ অন্তত তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বহু গ্রাম প্লাবিত হয়। জমি, বাড়িঘর থেকে শুরু করে নানা সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি হয় পুরো ভূতনি অঞ্চলে। বাঁধ ভাঙার পর থেকেই হাজারো মানুষ বাধ্য হয়ে নৌকায় যাতায়াত করছেন। এতে যেমন অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে, তেমনই প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, সেচ দফতরের আধিকারিকরা কয়েকবার এলাকা ঘুরে গেলেও স্থায়ী সমাধানের কোনো কাজ শুরু হয়নি। বন্যার সময় অস্থায়ীভাবে বালির বস্তা ফেলে রক্ষাকবচ তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু জল নামতেই সেই কাজ থেমে যায়। অভিযোগ, গ্রামবাসীরা বহুবার পঞ্চায়েতে সমস্যা জানালেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে মানুষের যাতায়াতের কষ্ট কিছুটা কমাতে এগিয়ে এসেছেন ভূতনির একদল যুবক ও সাধারণ মানুষ। দলমত ভুলে সকলের সহযোগিতায় ড্রামের উপর ভাসমান প্রায় ৫০ মিটার দীর্ঘ একটি সাঁকো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় দুই লক্ষ টাকা খরচে তৈরি হওয়া এই অস্থায়ী রাস্তা আপাতত ভরসা দিচ্ছে এলাকাবাসীকে। যুবকদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসন ও পঞ্চায়েত নীরব থাকায় তাঁদেরই এগিয়ে আসতে হয়েছে।
এদিকে ভাসমান সাঁকো ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। শাসক ও বিরোধী দল একে অপরকে দায়ী করছে। গ্রামবাসীদের দাবি, রাজ্য ও কেন্দ্র একযোগে দ্রুত স্থায়ী সেতু বা বাঁধ সংস্কারের ব্যবস্থা করুক, যাতে ভবিষ্যতে আর এমন দুর্ভোগ পোহাতে না হয়।


