ওড়িশার বালেশ্বর জেলার ভোগড়াই ব্লকের চাঁদনেশ্বর শহররের ১৫০ জন ওড়িয়া ব্যবসায়ীকে পশ্চিমবঙ্গের দিঘা থেকে উচ্ছেদ করে ফেরত পাঠানোয় ক্ষুব্ধ স্থানীয়েরা এবার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের দোকানদারদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে অভিযোগ। এতে দুই রাজ্যের সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, চাঁদনেশ্বরে ব্যবসা করা বাংলার দোকান মালিকদের তিন দিন দেওয়া হয়েছে তাদের দোকান বন্ধ করে এলাকা ছাড়ার জন্য। এদিন উদয়পুর-তালসাড়ি মেরিন থানার আইআইসি, ভোগড়াই থানার আইআইসি এবং স্থানীয় তহসিলদারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে দাবি তোলা হয়েছে সরকারি জমি বা অনুমতি ছাড়া দখল করে থাকা বাংলার ব্যবসায়ীদের দোকান দ্রুত সরাতে হবে।
সূত্রের খবর, বালেশ্বর জেলার অনেক মানুষ দিঘায় ছোট ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। সম্প্রতি দিঘা এলাকায় কিছু মহল ওড়িয়া ব্যবসায়ীদের দোকান ঘর ভাঙার দাবি তোলে। এরপর পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান চালালে ভোগড়াইয়ের প্রায় ১৫০ জন ব্যবসায়ী ২৪ নভেম্বর বাড়ি ফিরে আসতে বাধ্য হন। চাঁদনেশ্বরের বাসিন্দাদের দাবি, যদি দিঘায় ওড়িয়া ব্যবসায়ীরা জায়গা না পান, তাহলে এখানে বাংলার ব্যবসায়ীদেরও দোকান চালানোর অনুমতি দেওয়া যায় না। এলাকার কয়েকজন বাংলা ব্যবসায়ীকে ইতিমধ্যেই দোকান বন্ধ করতে বলা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
উচ্ছেদ হওয়া ওড়িয়া দোকানদাররা বিষয়টি ভোগড়াইয়ের কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের কাছে তুলে ধরেন। সংগঠনগুলির সদস্যরা দিঘা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসার চেষ্টা করলেও সেখানে প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি। সমাজসেবী দিলীপ কামিলা জানান, দিঘার পক্ষ থেকে কোনও সহযোগিতা না পাওয়ায় স্থানীয় দোকানদাররা দাবি তুলেছেন যে চাঁদনেশ্বরে বাংলার ব্যবসা-বাণিজ্যের উপরও একই রকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বালেশ্বরের জেলা শাসক সুখদকর নায়কের জানায়, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে উত্তেজনা আর না বাড়ে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে।


