রাজস্থানে বড়সড় বিতর্কের জেরে রবিবার রাজ্য সরকার স্কুলগুলিকে দেওয়া একটি নির্দেশ প্রত্যাহার করে নিল। সেই নির্দেশে ৬ ডিসেম্বর অর্থাৎ বাবরি মসজিদ ভেঙে দেওয়ার দিনটিকে “শৌর্য দিবস” হিসেবে পালন করার কথা বলা হয়েছিল। সরকারি ও বেসরকারি সব স্কুলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও দেশাত্মবোধক কর্মসূচি আয়োজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
গত শনিবার রাতে শিক্ষা দফতরের এক অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নির্দেশটি ছড়িয়ে পড়তেই বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের তরফে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। সার্কুলার অনুযায়ী, স্কুলগুলোতে রাম মন্দির আন্দোলন ও ভারতীয় সাংস্কৃতিক গৌরব নিয়ে রচনা এবং বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, অযোধ্যা মন্দিরকে কেন্দ্র করে আঁকা-আঁকির অনুষ্ঠান, দেশাত্মবোধক গান বা লোকনৃত্য, এবং পৌরাণিক বা ঐতিহাসিক “নায়ক”দের প্রদর্শনী আয়োজন করার কথা ছিল।
কিন্তু রবিবার মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক সীতারাম জাত জানান, তিনি এমন কোনও নির্দেশই জারি করেননি। এই ঘটনায় বহু সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করে। পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ রাজস্থান শাখা বিবৃতিতে জানায়, এই ঘটনার পেছনে গোপন উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তাদের প্রশ্ন, সরকারি অনুমোদন ছাড়া কীভাবে রাজ্যজুড়ে সংবাদমাধ্যমে ওই সার্কুলার ছাপা হল। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাসরা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বলেন, “একটি উপাসনালয় ভাঙাকে শিশুদের কাছে বীরত্বের দিন হিসেবে দেখাতে চায় সরকার। এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হবে।” কংগ্রেসের আরেক নেতা সোর্ণিম চতুর্বেদী অভিযোগ করেন, এটি ইতিহাস বিকৃত করে স্কুলের উপর রাজনৈতিক বোঝা চাপানোর চেষ্টা।
মুসলিম সংগঠনগুলিও এই নির্দেশটির নিন্দা জানিয়েছে। রাজস্থান মুসলিম ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ নাজিমউদ্দিন বলেন, “একটি মসজিদ ধ্বংসের দিন শিক্ষার্থীদের দিয়ে পালন করানো কীভাবে যুক্তিসঙ্গত?” ঘটনাটি রাজস্থানে শিক্ষা ব্যবস্থার রাজনীতিকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। যদিও নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে, বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজ চাইছে সরকার এই বিষয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করুক এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত না নেওয়ার নিশ্চয়তা দিক।


