চীন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে বলে জানা গিয়েছে।এবার সেই উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে মানবিক খনি অপসারণ অভিযানের মাধ্যমে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিলের অধীনে চীনা সেনারা দীর্ঘদিন ধরে পুঁতে রাখা স্থলখনি নিষ্ক্রিয় করার কাজ শুরু করেছে। এই এলাকা ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সংঘাতপ্রবণ সীমান্ত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে দুই দেশের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।
চীনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২৩তম চীনা শান্তিরক্ষা বাহিনী ‘ব্লু লাইন’ নামে পরিচিত সীমান্ত এলাকায় খনি পরিষ্কারের কাজ করছে। এখানে যেসব খনি পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর বেশিরভাগই ১৯৭০-এর দশকে পুঁতে রাখা অ্যান্টি-পার্সোনেল খনি। বহু বছরের পুরোনো হয়ে যাওয়া এই খনি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সামান্য অসতর্কতাতেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ইউনিফিলে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত, চীনা বাহিনী পাঁচ হাজার ৩০০ বর্গমিটারের বেশি এলাকা খনিমুক্ত করেছে। তারা ৬৬৭টি স্থলমাইন ও অবিস্ফোরিত গোলা শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে এখন পর্যন্ত কোনো চীনা সেনা হতাহত হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েল চীনের ভূমিকা নিয়ে অস্বস্তিতে থাকলেও প্রকাশ্যে আপত্তি তুলতে পারছে না, কারণ এই অভিযানটি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে যদি গাজায় শান্তিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করা হয়, তাহলে চীনের বড় ভূমিকা থাকতে পারে। এদিকে, ইসরায়েলের ভেতরেও চীনা উপস্থিতি বাড়ছে। বিভিন্ন বড় নির্মাণ ও অবকাঠামো প্রকল্পে চীনা সংস্থাগুলো চুক্তি পাচ্ছে। এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ভারতের মধ্যে চীনকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে চীন সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা করিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যে চীনের সক্রিয়তা নতুন মাত্রা পাচ্ছে, যা আগামী দিনে আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে বিশেষকরা।


