বেঙ্গালুরুর উপকুল এলাকার কোগিলু গ্রামে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলির জন্য বিকল্প বাসস্থানের ঘোষণা করল কর্ণাটক সরকার। সোমবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানালেও মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ও উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সরকারি জমিতে বেআইনিভাবে তৈরি ঘর ভাঙার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল এবং ভবিষ্যতেও দখলদারি বরদাস্ত করা হবে না।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ২০ ডিসেম্বর কোগিলু গ্রামে যে শেড ও ঘরগুলি ভাঙা হয়েছে, তার আগে সংশ্লিষ্টদের নোটিস দেওয়া হয়েছিল। ওই জমি সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট ছিল। তাই সেখানে বসতি গড়ে ওঠা আইনসিদ্ধ নয় বলেই সরকারের দাবি। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, স্থানীয় রাজস্ব দফতর ও পুরসভার কিছু আধিকারিকের অজান্তে এ ধরনের বসতি গড়ে ওঠা সম্ভব নয়। এ কারণে সংশ্লিষ্ট তহসিলদার, শিরাস্তেদার এবং বিবিএমপি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে উচ্ছেদ হওয়া যোগ্য পরিবারগুলিকে বিকল্প ঘর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে। আবাসনমন্ত্রী বি জেড জামির আহমেদ খান, উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার ও স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গে আলোচনার পর ঠিক হয়েছে, কোগিলু থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে বাইয়াপ্পানাহল্লিতে এই পরিবারগুলিকে ঘর দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওই এলাকায় সরকারি নির্মিত প্রায় ১,০৮৭টি ঘর রয়েছে। প্রতিটি ঘরের আনুমানিক মূল্য ১১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। সাধারণ শ্রেণির পরিবার সর্বোচ্চ ৮ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি পাবে। তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত পরিবার পাবে ৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি। বাকি টাকা যাচাইয়ের পর স্বল্প ঋণ হিসেবে দিতে হবে। যাচাই প্রক্রিয়া শেষ করে ১ জানুয়ারি থেকেই পরিবারগুলিকে ঘরে ওঠার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আবাসনমন্ত্রীকে। উচ্ছেদ হওয়া বহু বাসিন্দার দাবি, তারা ২০-৩০ বছর ধরে ওই এলাকায় থাকছেন এবং ভোটার কার্ড, আধার কার্ড-সহ সব নথি রয়েছে। তবে সরকার জানিয়েছে, আইন মানা যেমন জরুরি, তেমনই গরিব ও অসহায়দের পুনর্বাসনের দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।


