উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দে সম্প্রদায়িক সীমানা অতিক্রম করে মানবতার উদাহরণ তৈরি করলেন মুসলিম প্রতিবেশীরা। ২০ বছরের একাকী জীবন যাপন করা হিন্দু ব্যক্তি অজয় কুমার সাইনির শেষকৃত্য সম্পন্ন করলেন মুসলিম প্রতিবেশীরা।
৪০ বছর বয়সী অজয় কুমার কোহলা বস্তির একটি ভাড়া বাড়িতে দীর্ঘদিন একাই ছিলেন। কিডনির অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তিনি মারা যান। মৃতদেহের শেষকৃত্য করার জন্য কোনো আত্মীয় ছিলেন না। এই সময় স্থানীয় কর্পোরেটর গুলফাম আনসারি এবং তার সঙ্গীরা এগিয়ে আসেন।
গুলফাম ও তার সঙ্গীরা অজয়ের দেহ সজ্জিত করেন, শেষকৃত্য চিতার আয়োজন করেন এবং তাকে বৈদিকুণ্ড শ্মশানে নিয়ে যান। তারা স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের পরামর্শ নিয়ে সব প্রক্রিয়া যথাযথ ও সম্মানের সঙ্গে সম্পন্ন করেন।
গুলফাম পিটিআইকে বলেন, “আমরা হিন্দু শেষকৃত্য প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতাম না। তাই স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের পরামর্শে আমরা সব কাজ শেষ করেছি।”
তাদের সহানুভূতি এখানেই থেমে থাকেনি। শোকাবহ তিন দিনের সময়কালে অজয়ের বাড়িতে আগত অতিথি ও আত্মীয়দের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও করেছিলেন তারা। গ্রামের মানুষ এই কর্মকে প্রকৃত প্রতিবেশী সৌহার্দ্যের উদাহরণ বলে প্রশংসা করেছেন। এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দৈনন্দিন জীবনে সংহতি ও মানবিক সহানুভূতির মূল্য অপরিসীম। সম্প্রদায়িক উত্তেজনার সময়ে এমন ঘটনা ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার শক্তি প্রমাণিত করে দেই।


