হুগলি জেলার পোলবা ব্লকের দাদপুর–পুইনান এলাকায় শুরু হয়েছে ঐতিহাসিক বিশ্ব ইজতেমা। চারদিনের এই বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশের প্রথম দিনেই লক্ষ লক্ষ মুসল্লির উপস্থিতিতে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ধনিয়াখালি হল্ট স্টেশন, মহেশ্বরপুর হাই রোড, চুঁচুড়া ও চন্দননগর স্টেশন থেকে বহু মানুষ অটো, বাস এবং পায়ে হেঁটে ইজতেমা ময়দানের দিকে রওনা দেন। ভোর থেকেই রাস্তা জুড়ে মুসল্লিদের স্রোত দেখা যায়।শুক্রবার জুম্মার নামাজকে কেন্দ্র করে উপস্থিতির সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। অনেকেই চেয়েছিলেন বিশ্ব ইজতেমার পবিত্র পরিবেশে জুম্মার নামাজ আদায় করতে। সেই কারণে ফজরের নামাজের পর থেকেই দূরদূরান্তের মানুষ দাদপুর–পুইনানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। দুপুর ১টার দিকে জুম্মার নামাজের মাধ্যমে প্রথম দিনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়।প্রথমে জানা গিয়েছিল, তবলিগ-ই জামাতের আমীর, বিশ্বজুড়ে পরিচিত মাওলানা মুহাম্মদ সাদ কান্ধলভী জুম্মার নামাজে ইমামতি করবেন। তবে কুয়াশার কারণে ট্রেন চলাচলে দেরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত অন্য এক সম্মানীয় আলেম নামাজ পড়ান। তবুও এই পরিবর্তন নিয়ে কোনও অসন্তোষ বা বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়ের মধ্যেও শৃঙ্খলা ও ধৈর্যের পরিচয় দেন মুসল্লিরা।ইজতেমা ময়দান শুরু থেকেই পুরোপুরি ভরে যায়। ভিড় সামাল দিতে তবলিগের স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মকর্তারা আগেভাগেই নানা ব্যবস্থা নেন। এর ফলে কোথাও দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। নামাজের সময় ময়দানে জায়গা না পেয়ে অনেক মুসল্লি ১৭ নম্বর চুঁচুড়া–তারকেশ্বর সড়কের ধারে এবং আশপাশের খোলা জায়গায় নামাজ আদায় করেন। এদিন মানুষের বিশাল সমাবেশে প্রথম দিনেই বিশ্ব ইজতেমার ধর্মীয় পরিবেশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
Popular Categories


