বিহারের গোপালগঞ্জে এক মুসলিম যুবককে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গরুর মাংস বহনের সন্দেহে মুহাম্মদ আজাদ নামে ওই যুবককে প্রথমে একদল লোক আটক করে খুঁটিতে বেঁধে বেধড়ক মারধর করে। কিন্তু এই ঘটনার পরও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিহার সংখ্যালঘু কমিশন।সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি আজাদকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে লাথি ও ঘুষি মারছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে আজাদকে আটক করে রাখে এবং পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নেয়।এদিকে, বিহার সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান গুলাম রসুল বাল্যাভি গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপারকে একটি চিঠি পাঠিয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, আজাদকে গ্রেফতার করা হলেও যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে প্রকাশ্যে মারধর করেছে, তাদের বিরুদ্ধে এখনও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কমিশনের মতে, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক ঘটনা।কমিশনের দাবি, সিওয়ান জেলার বারহারিয়া থানা এলাকার মীরা চাপড়া গ্রামের বাসিন্দা মুহাম্মদ আজাদকে গোপালগঞ্জ শহরের সাহদুল্লাপুর মাটিয়া গ্রামে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় এবং নিষিদ্ধ মাংস বিক্রির অভিযোগ তুলে অমানবিকভাবে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে কিছু হিন্দু সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জড়িত।সংখ্যালঘু কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যারা নিজেরাই বিচারক সেজে সহিংসতা চালিয়েছে এবং এলাকায় অশান্তি তৈরির চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। কমিশনের মতে, একতরফাভাবে শুধু অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। এখন পুলিশ প্রশাসন এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সাধারণ মানুষের।
গোমাংস বহনের সন্দেহে হামলা,অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিহার সংখ্যালঘু কমিশনের কড়া প্রশ্ন
Popular Categories


