উত্তর প্রদেশে ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজ্যের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর অভিযোগ উঠেছে যে বিপুল সংখ্যক মুসলিম ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই ঘটনায় বিরোধী দলগুলির মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোচনা চলছে। নির্বাচনী কমিশনের খসড়া তালিকা অনুযায়ী, বিশেষ সারসংক্ষেপ সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার পরে প্রায় ২.৮৯ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সংশোধনের আগে উত্তর প্রদেশে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫.৪৪ কোটি। নতুন তালিকায় সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২.৫৫ কোটিতে, যা প্রায় ১৮ শতাংশ হ্রাস।বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, যেসব জেলায় মুসলিম জনসংখ্যা বেশি, সেখানে নাম বাদ পড়ার হার তুলনামূলকভাবে বেশি। লখনউয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ গেছে বলে খসড়া তালিকায় দেখা যাচ্ছে। গাজিয়াবাদে এই হার প্রায় ২৯ শতাংশ। সাহারানপুর, মুজাফফরনগর, মোরাদাবাদ, রামপুর ও সম্ভলের মতো মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলিতেও ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
নির্বাচনী কমিশন অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ। কমিশনের বক্তব্য, মৃত ভোটার, একাধিক জায়গায় নাম থাকা ভোটার এবং যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করেননি, শুধু তাঁদের নামই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের দাবি, এটি একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া। তবে বিরোধী নেতারা এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। সমাজবাদী পার্টির নেতা যখরুল হাসান চাঁদ বলেন, পিছিয়ে পড়া শ্রেণি, দলিত ও সংখ্যালঘু ভোটারদের অধিকার রক্ষায় তাঁর দল সব সময় সতর্ক থাকবে এবং একজন প্রকৃত ভোটারও যেন বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করা হবে। নেতাদের আশঙ্কা, যদি সময়মতো প্রকৃত ভোটাররা তাঁদের নাম ফের তালিকায় তুলতে না পারেন, তাহলে এর প্রভাব রাজ্যের গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বের উপর পড়তে পারে। বিরোধী দলগুলি দাবি করেছে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে এই প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।


