দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হতেই বনগাঁ এলাকায় মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে নতুন বিতর্ক শুরু হয়। বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর ঠাকুরবাড়িতে শিবির বসিয়ে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন নেওয়া শুরু করেন। তার আশ্বাসে বহু মানুষ বিশ্বাস করেছিলেন, নির্দিষ্ট কিছু শংসাপত্র দেখালেই নাগরিকত্ব পাওয়া যাবে। সেই ভরসাতেই হাজার হাজার মতুয়া ওই শিবিরে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেন এবং আবেদন জমা দেন।কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি সামনে আসতেই হতাশা ছড়িয়েছে। শুনানিতে হাজির হয়ে মতুয়াদের অভিযোগ, শান্তনু ঠাকুরের দেওয়া ধর্মীয় বা জাতিগত শংসাপত্র এবং সিএএ-র আবেদনপত্র কমিশনের আধিকারিকরা গ্রহণ করছেন না। আধিকারিকদের যুক্তি, এই সব নথি নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ১১ দফা তালিকার মধ্যে পড়ে না। ফলে বহু মানুষকে কাগজ জমা দিয়েও খালি হাতে ফিরে আসতে হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বনগাঁ মহকুমায় প্রায় এক লক্ষ চৌত্রিশ হাজার ভোটারকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক লক্ষ কুড়ি হাজারই মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। হাবরা বিধানসভা এলাকাতেও একই ছবি। বহু ভোটারের নাম পুরনো তালিকায় নেই বা সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। শুনানির নোটিস পাওয়া মানুষের বড় অংশই বাংলাদেশ থেকে আসা উদ্বাস্তু পরিবারের সদস্য, যাদের কাছে কমিশনের চাওয়া নির্দিষ্ট নথি নেই।হাবরা-১ বিডিও অফিসে চলা শুনানিতে মছলন্দপুর থেকে আসা বাদল বিশ্বাস বলেন, তিনি মতুয়া কার্ড ও নাগরিকত্বের আবেদনপত্র জমা দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সবই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। আর এক বাসিন্দা প্রদীপ হালদার জানান, অফিস থেকে বলা হয়েছে শুধুমাত্র তালিকাভুক্ত নথি থাকলেই তা গ্রহণ করা হবে। এই পরিস্থিতিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। পূর্বের সান্তনু ঠাকুরের দেওয়া আশ্বাস এবং বর্তমান অভিজ্ঞতার এই ফারাক তাদের মনে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
Popular Categories


