ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে টানা বিক্ষোভ চলার প্রেক্ষাপটে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে। আইআরজিসির দাবি, পশ্চিমা দেশগুলোর মদদ ও অর্থ সহায়তায় এসব বিক্ষোভ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাতভর চলা এই বিক্ষোভে ইসলামবিরোধী ও ভাড়াটে দুষ্কৃতকারীরা অংশ নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তারা। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, গত দুই রাত ধরে সন্ত্রাসীরা সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এ সময় সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তিতে আগুন দেওয়া হয়েছে। তারা আরও জানায়, দেশের কৌশলগত স্থাপনা, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের জানমাল রক্ষায় আইআরজিসি কঠোর অবস্থানে থাকবে। উল্লেখ্য, আইআরজিসি ইরানের সেনাবাহিনী থেকে আলাদা হলেও উভয় বাহিনীই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অধীনে পরিচালিত হয়।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পশ্চিম তেহরানের কারাজ এলাকায় একটি পৌরসভা ভবনে আগুন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। ইরান সরকারের দাবি, এসব ঘটনায় আমেরিকা ও ইসরাইল সরাসরি জড়িত। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। কিছু বিক্ষোভকারী ইসলামি প্রজাতন্ত্র বিলুপ্ত করে রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবি তুলছে। অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত রেজা পাহলভি এসব আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছেন।
এদিকে ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের কুর্দিস্তান প্রদেশের প্রতিনিধি মামোস্তা ফায়েক রোস্তামি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার ইস্যুকে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, আমেরিকার আধিপত্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে মুসলিম বিশ্বের ঐক্য জরুরি। একইসঙ্গে তিনি জানান, ইরানি জনগণ কখনোই বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না।আসালুইয়ার জুমার নামাজের ইমাম শেখ ইব্রাহিম মোহাম্মদীও বলেন, ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মোকাবিলার একমাত্র পথ হলো ঐক্য বজায় রাখা এবং পবিত্র কুরআন ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করা।


