ঘন কুয়াশার মধ্যে গ্রেটার নোয়ডায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল ২৭ বছরের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজ মেহতার। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সেক্টর ১৫০ এলাকায় বাড়ি ফেরার পথে নির্মাণকাজের জন্য খোঁড়া একটি জলভরা গর্তে পড়ে যায় তাঁর গাড়ি। রাস্তার ধারে ওই গর্তে কোনও ব্যারিকেড, আলো বা সতর্কতামূলক চিহ্ন না থাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ।
গাড়িটি ধীরে ধীরে জলে ডুবে যেতে শুরু করলে যুবরাজ কোনওরকমে উঠে গাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন। সাঁতার না জানলেও তিনি মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে নিজের অবস্থান জানান এবং বাবাকে ফোন করে খবর দেন। খবর পেয়ে তাঁর বাবা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ঘন কুয়াশার কারণে সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। ছেলের চিৎকার শোনা গেলেও কাছে পৌঁছে সাহায্য করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও দমকল কর্মীরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। দড়ি, মই ও ক্রেন ব্যবহার করেও গভীর জল, অন্ধকার ও কুয়াশার কারণে উদ্ধারকাজে সমস্যা হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর যুবরাজের চিৎকার থেমে যায়। ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়।
যুবরাজ গুরগাঁওয়ের একটি আইটি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। দু’বছর আগে তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়েছে এবং তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। ঘটনার পরে যুবরাজের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারী সংস্থার বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই গর্তটি খোলা অবস্থায় পড়ে ছিল এবং আগেও সেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে।


