এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় সোমবার সুপ্রিম কোর্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশ সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি, যেসব ভোটারকে শুনানির জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের সম্পূর্ণ তালিকা এবং কারণ জানিয়ে হাজির করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এতদিন শুনানিতে ভোটারদের জমা দেওয়া নথির কোনও রসিদ দেওয়া হচ্ছিল না। এবার থেকে সেই রসিদ দেওয়া বাধ্যতামূলক বলে জানিয়ে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
তবে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের বাস্তব প্রভাব মঙ্গলবার রাজ্যের বিভিন্ন শুনানি কেন্দ্রে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। মুর্শিদাবাদের সুতি-২ ব্লকসহ একাধিক জায়গায় ভোটাররা দাবি করেছেন, শুনানিতে শুধু নোটিশের কপি নেওয়া হয়েছে। নথি যাচাই বা জমা নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে হাজিরার প্রমাণ হিসেবে কোনও রসিদও দেওয়া হয়নি। ভোটারদের অভিযোগ, নোটিশ পেয়ে হাজার হাজার মানুষ দূরদূরান্ত থেকে শুনানি কেন্দ্রে আসছেন। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন মহিলা ও প্রতিবন্ধী ভোটাররা। সুতি-২ ব্লকের অরঙ্গাবাদ গ্রামের প্রতিবন্ধী ভোটার হাসিনা খাতুনকে দু’চাকার চেয়ারে বসিয়ে শুনানি কেন্দ্রে আসতে হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাঁর বাবার নাকি ছয়টি সন্তান থাকায় ভোটার পরিচয় সন্দেহজনক। হাসিনা খাতুন ও তাঁর পরিবারের দাবি, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের হয়রানি করা হচ্ছে।
শুনানি কেন্দ্রে নথি না দেখেই শুনানি শেষ হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে জানতে সুতি-২ ব্লকের বিডিওর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর অভিযোগ করেছে, এসআইআরের নামে সংবিধানবিরোধীভাবে সংখ্যালঘু, মহিলা, পরিযায়ী শ্রমিক ও প্রান্তিক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাদের দাবি, এই এসআইআর প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।


