পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হল জামাআতে ইসলামি হিন্দ। বুধবার সংগঠনের এক প্রতিনিধি দল জেলা শাসকের দফতরে গিয়ে লিখিতভাবে তাদের বক্তব্য পেশ করে। জেলা শাসকের অনুপস্থিতিতে এদিন প্রতিনিধি দলের কথা শোনেন অতিরিক্ত জেলাশাসক বিভব চৌধুরী এবং ডেপুটেশন গ্রহণ করেন।
প্রতিনিধি দলের অভিযোগ, এসআইআর-এর নাম করে বহু সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় ভাবে ডাকা হচ্ছে, ফলে সময় ও অর্থ—দু’দিক থেকেই সমস্যায় পড়ছেন তারা। সংগঠনের দাবি, বিশেষ করে দ্বিতীয় পর্যায়ের হিয়ারিংয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের বেশি করে তলব করা হচ্ছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই তাদের ধারণা। এ ধরনের পদক্ষেপে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বলেও তারা জানান।
এডিএম বিভব চৌধুরী বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে শোনেন এবং জানান, এ ধরনের অভিযোগ তার কাছেও এসেছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, এই প্রক্রিয়ার ফলে কারও নাগরিকত্ব নিয়ে কোনও ঝুঁকি তৈরি হবে না। প্রশাসনের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন জামাআতে ইসলামি হিন্দের জেলা সহ-সভাপতি ইকবাল হোসেন, আবদুর রশিদ খান এবং যুব নেতা শেখ সামাউল আলি। ইকবাল হোসেন প্রশাসনের কাছে সংগঠনের সামাজিক ভূমিকা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে জামাআতের কাজের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি সংগঠনের ইংরেজি সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘রেডিয়েন্স ভিউজ উইকলি’-র একটি কপি প্রশাসনের প্রতিনিধির হাতে তুলে দেন।
ডেপুটেশনে আরও অভিযোগ করা হয়, ৭ নম্বর ফর্মের যথেচ্ছ ব্যবহার করে মানুষকে বারবার হিয়ারিংয়ে ডাকা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা ও সংবেদনশীলতা বজায় রেখে এসআইআর প্রক্রিয়া চালানোর দাবি জানানো হয়েছে।


