মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর হামলার আগে সেনা সদস্যরা তাদের ‘মুসলিম কুকুর’ বলে গালিগালাজ করত—এমনই বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে। রাষ্ট্রসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে দাখিল করা বক্তব্যে গাম্বিয়া অভিযোগ করেছে, পরিকল্পিত ঘৃণাভাষণ আর সামরিক উস্কানির মাধ্যমেই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানো হয়।
আদালতে গাম্বিয়ার পক্ষে জানানো হয়, মায়ানমারের সেনা আধিকারিকরা প্রকাশ্যে রোহিঙ্গাদের “ভূমি থেকে মুছে ফেলার” ডাক দিয়েছিল। ২০১৭ সালের একটি ভিডিওর উল্লেখ করে বলা হয়, যেখানে সেনাদের গ্রামে ঢুকে অস্ত্র হাতে নিয়ে ‘ওই প্রাণীদের’ আক্রমণের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল। এই ভাষা ও আচরণ সরাসরি গণহত্যা সনদের লঙ্ঘন বলে দাবি করা হয়।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে উত্তর রাখাইন প্রদেশে হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়, শতাধিক গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয় এবং নারী ও শিশুদের উপর ব্যাপক যৌন হিংসা চালানো হয়। এই ঘটনার জেরে সাত লক্ষের বেশি মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। যদিও মায়ানমার সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে ‘সন্ত্রাস দমন অভিযান’ বলে দাবি করেছে। আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত এই শুনানি চলবে।

