প্রজাতন্ত্র দিবসের ঠিক আগে কলকাতার আনন্দপুর এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গোটা এলাকা শোকস্তব্ধ। কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নিতে গিয়ে রাতে আগুনে ঝলসে মারা যান কয়েকজন দরিদ্র শ্রমিক। অনেক পরিবার এক মুহূর্তে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।এই মর্মান্তিক ঘটনার পরই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। প্রশ্ন উঠেছে, এত বড় দুর্ঘটনার সময় দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু কেন ঘটনাস্থলে যাননি। জানা গেছে, ঘটনার দিন দুপুর থেকে তিনি নিজের এলাকা লেকটাউনেই ছিলেন। অথচ আনন্দপুরের ঘটনাস্থল তাঁর অবস্থান থেকে মাত্র আট কিলোমিটার দূরে। তবুও সারাদিন সেখানে তাঁকে দেখা যায়নি।
বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, মানুষের জীবন যখন বিপন্ন, তখন দমকলমন্ত্রীর ঘটনাস্থলে থাকা উচিত ছিল। যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী নিজেই। তিনি বলেন, “দমকলমন্ত্রীকে কি সব সময় স্পটে থাকতে হবে? শুধু গেলেই তো কাজ হয় না। দমকল বিভাগ ঠিকমতো কাজ করেছে বলেই বারোটা গাড়ি দ্রুত সংগঠিত করা সম্ভব হয়েছে।” তিনি আরও জানান, বিরোধীরা এই ঘটনা নিয়ে সস্তার রাজনীতি করছে।ঘটনার প্রায় ন’ঘণ্টা পরে ঘটনাস্থলে যান মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সোনারপুর উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক ফিরদৌসি বেগম এবং রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল নজরুল আলি মণ্ডল। এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃতদেহগুলি এতটাই পুড়ে গেছে যে শনাক্ত করা কঠিন। তাই ডিএনএ পরীক্ষার জন্য দেহ পাঠানো হবে। সন্ধ্যার পর জেসিবি দিয়ে গোডাউনের ভাঙা কাঠামো সরিয়ে নিখোঁজদের খোঁজ শুরু হয়। এখনও অনেকের সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ শ্রমিকদের আত্মীয়দের অভিযোগ, গোডাউনের দরজা তালাবন্ধ ছিল। সব মিলিয়ে কয়েক মুহূর্তে আনন্দপুর যেন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে।


